মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ইরানের জাগরোস পর্বতমালার পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে শিগগিরই হামলা চালাতে পারে বলে ঘোষণা করেছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান তাদের অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের একটি অংশ এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নিয়েছে।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সামরিক অভিযান চালাতে পারে। তিনি এই চলমান সংঘাতকে একটি যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা না করে বরং একটি সামরিক সংঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের মতে, এই সংঘাতটি অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি একটি ছোটখাটো বিষয়।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের ইসফাহান প্রদেশে অবস্থিত জাগরোস পর্বতমালার একটি অংশ। এই স্থানটি নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্স থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। ইরান এই পাহাড়ের গভীরে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নির্মাণ করছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ নজর কেড়েছে। ধারণা করা হয় যে, এই স্থাপনাটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।
তবে মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার এই হুমকির হুমকি এবং সংঘাতের ধরন নিয়ে ট্রাম্পের সাথে একমত নন। শুমার জানান যে, এই সংঘাতের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতিকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সংঘাতের ফলে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং শত শত সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
এছাড়া তিনি আমেরিকানদের ওপর রেকর্ড উচ্চমূল্যের চাপের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন।
ইরান এই সর্বশেষ হুমকির বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি এর আগে জানিয়েছিলেন যে, হুমকি এখনো শেষ হয়নি এবং ইরান বর্তমানে বা ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সংঘাতের জন্য প্রস্তুত।
এর আগে গত জুলাই মাসেও ডোনাল্ড ট্রাম্প পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছিলেন যে, ওই এলাকায় কোনো পারমাণবিক কার্যক্রম নেই। বাঘাইর অভিযোগ ছিল যে, স্থাপনাটিকে ঘিরে ওয়াশিংটনের বারবার বক্তব্য আসলে আগ্রাসন, ধ্বংসযজ্ঞ এবং পরিকল্পিত নাশকতার পক্ষে অজুহাত তৈরি করার একটি চেষ্টা মাত্র।
এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি পাহাড়ের গভীরে নির্মাণ করার কারণে আন্তর্জাতিক মহলে এটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি এবং ইরানের অস্বীকারের দাবিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণাটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের একটি নতুন পর্যায় নির্দেশ করে।
