মিসরের একটি আদালত জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারা খলিফাসহ মোট ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। শনিবার কায়রোর একটি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় আরও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সারা খলিফা এবং অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠন করে বিদেশ থেকে মাদক তৈরির উপকরণ সংগ্রহ, কৃত্রিম মাদক উৎপাদন ও তা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে দেখা গেছে, এই চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মাদক ব্যবসার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য এবং মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কায়রোর দুটি অ্যাপার্টমেন্টকে মাদক তৈরির পরীক্ষাগার বা ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
ওই অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। মিসরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ার আগে দেশটির গ্র্যান্ড মুফতির মতামত গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। এই মামলায় সেই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তবে আদালতের দেওয়া এই রায়ই চূড়ান্ত নয়। মিসরের আইন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
সারা খলিফা মিসরের একজন পরিচিত মুখ। তিনি টেলিভিশনে 'মিশন ইমপসিবল' নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন। এই অনুষ্ঠানটিতে মূলত নিরাপত্তা, অপরাধ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হতো। টেলিভিশনে উপস্থাপনার পাশাপাশি সারা খলিফা ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক রয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন পার্টি ও অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিক।
মাদক মামলার পাশাপাশি সারা খলিফা ও কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের পৃথক একটি অভিযোগও ছিল। সেই মামলায় তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সারা খলিফার বিরুদ্ধে আদালতের এই রায় এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আপিল করার পর উচ্চ আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন।
বর্তমানে সারা খলিফা এবং অন্যান্য দণ্ডপ্রাপ্তরা আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলার রায়ের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে মিসরের জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধী চক্রের সঙ্গে একজন জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকার সম্পৃক্ততা এবং মাদক তৈরির ল্যাবরেটরি পরিচালনার বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসার পর থেকেই মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে এই চক্রের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছিল এবং পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পরই অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা মাদকদ্রব্য এবং অস্ত্রের পরিমাণ থেকে চক্রটির বিস্তৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আদালতের রায়ে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আপিল প্রক্রিয়ায় মামলার মোড় কোন দিকে যায়, তা দেখার জন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে।
