ডোমিনিকান রিপাবলিকের প্রতিযোগী জোহেইরি মোলা ডমিঙ্গুয়েজ মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ খেতাব অর্জন করেছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামে আয়োজিত ৭৫তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালেতে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে তিনি এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেন। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে স্পেনের এলিজাবেথ রেনেস প্রথম রানার-আপ এবং মালয়েশিয়ার তানুসিয়া চেট্টি দ্বিতীয় রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
মিস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেছে। ভিয়েতনামে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিযোগীরা তাদের মেধা ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেন। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে বিচারকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এবং মঞ্চে নিজেদের উপস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। জোহেইরি মোলার মাথায় বিজয়ের মুকুট পরিয়ে দেন গত বছরের বিজয়ী সুচাতা চুয়াংস্রি।
গত বছরের মিস ওয়ার্ল্ড বিজয়ী সুচাতা চুয়াংস্রি থাইল্যান্ডের প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে এই খেতাব জিতেছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের ৩১ মে ভারতের হায়দ্রাবাদ শহরে আয়োজিত ৭২তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন। সেই প্রতিযোগিতায় ইথিওপিয়ার হাসেত দেরেজে আদমাসু প্রথম রানার-আপ হয়েছিলেন। সুচাতা চুয়াংস্রি তার বিজয়ের পর স্তন ক্যান্সার সচেতনতা নিয়ে বিভিন্ন প্রচারণামূলক কাজে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন।
১৬ বছর বয়সে নিজের স্তনে একটি পিণ্ড শনাক্ত হওয়ার পর তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্ব অনুভব করেন এবং পরবর্তীতে বিশ্বমঞ্চে এই বার্তাটি ছড়িয়ে দেন। মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বগুলো বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিশেষ করে উগান্ডার প্রতিনিধি এলি মুহোজার পোশাক নির্বাচন দর্শকদের নজর কেড়েছিল। তিনি ডিজাইনার কিশা আব্দুল্লাহর তৈরি ‘দ্য লেয়ারস অফ লাইফ’ নামক একটি বিশেষ পোশাক পরে মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন।
এই পোশাকটি মূলত সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের কাটা সাতটি স্তরের প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। ডিজাইনার কিশা আব্দুল্লাহর ভাষ্যমতে, এই পোশাকের প্রতিটি রঙ এবং স্তর জীবনের নতুন প্রাণ পৃথিবীতে আসার অসাধারণ যাত্রাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল। পোশাকটিতে সাদা, হলুদ, গোলাপি এবং লাল রঙের কাপড় ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ত্বকের স্তর, চর্বি, ফাসিয়া, রেকটাস পেশি, পেরিটোনিয়াম, জরায়ুর পেশি এবং অ্যামনিওটিক থলিকে নির্দেশ করে।
ডিজাইনার আরও জানান যে, এই পোশাকটি কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা বর্ণকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তৈরি করা হয়নি, বরং এটি মাতৃত্ব এবং জীবনের জটিল প্রক্রিয়ার একটি শৈল্পিক প্রকাশ। মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এটি একটি ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা হিসেবে গণ্য হয়েছে। গত বছরের বিজয়ী সুচাতা চুয়াংস্রি তার নিজের মুকুটটি ২০২৩ সালের মিস ওয়ার্ল্ড বিজয়ী চেক প্রজাতন্ত্রের ক্রিস্টিনা পিসকোভার কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন।
২০২৫ সালের সেই প্রতিযোগিতায় মোট ১০৮ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। এবারের আসরেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জোহেইরি মোলার এই জয় ডোমিনিকান রিপাবলিকের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাসে বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
এবারের আসরটি ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে বিশ্বজুড়ে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার অনুরাগীদের নজর ছিল। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়ীকে আগামী এক বছর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে। জোহেইরি মোলা এখন থেকে মিস ওয়ার্ল্ড সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মানবিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন বিজয়ীকে নিয়ে আলোচনা চলছে। আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের প্রতিযোগিতাটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ছিল এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো প্রতিযোগীদের মান ছিল অত্যন্ত উন্নত। মিস ওয়ার্ল্ডের এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রতিটি বছরই নতুন নতুন বার্তা নিয়ে প্রতিযোগীরা হাজির হন, যা বিশ্বমঞ্চে নারীদের ক্ষমতায়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
জোহেইরি মোলার এই জয় আগামী দিনে তার ক্যারিয়ার এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
