মিশরের দক্ষিণ সিনাই গভর্নরেটে একটি বাস দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বুধবার সকালে সিনাই উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে দাহাব থেকে নুইবাগামী সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এলাকাটি লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত এবং পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন আবদেল গাফফার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত ২০টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো হতাহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কাজ সম্পন্ন করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদ আবদেল গাফফার সংশ্লিষ্ট সব চিকিৎসা কেন্দ্রকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। মিশরে সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মিশরের সড়ক ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে এবং প্রায়ই বড় ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
গত মাসেও মিশরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইসমাইলিয়া গভর্নরেটে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছিলেন। দাহাব থেকে নুইবাগামী এই সড়কটি পর্যটন এলাকা হওয়ায় এখানে সবসময় যানবাহনের চাপ থাকে। বুধবার সকালে ঠিক কী কারণে বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশটির সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত বিরতিতে ঘটা এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সড়ক দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পেছনে অতিরিক্ত গতি, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সড়কের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণকে দায়ী করা হয়। যদিও কর্তৃপক্ষ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তবুও বড় ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
মিশরের এই সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাটি দেশটির পরিবহন খাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন এলাকাগুলোতে যাতায়াতকারী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে যাতে আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশটির সংশ্লিষ্ট মহল থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
