মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিম্প-ইএজিএ অঞ্চলের এই চারটি দেশ তাদের কর্মশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ১ সেপ্টেম্বর ব্রুনাই দারুসসালামে আয়োজিত বিম্প-ইএজিএ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা ক্লাস্টারের ১১তম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্রুনাইয়ের সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সারাওয়াকের শিক্ষা, উদ্ভাবন ও মেধা উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপ-স্থায়ী সচিব এবং বিম্প-ইএজিএ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্লাস্টারের চেয়ারপারসন ক্যারোলিন ক্লিওফাস জোসেফ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে মূলত বিম্প-ইএজিএ অঞ্চলের শ্রমবাজারের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (কেসুমা) এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের ফলে কর্মক্ষেত্রের ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে কর্মীদের আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা অপরিহার্য। বৈঠকে ক্লাস্টারের অধীনে চলমান বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
একইসঙ্গে আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় বিম্প-ইএজিএ নেতৃত্ব পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিম্প-ইএজিএ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্লাস্টারের অধীনে তিনটি প্রধান ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে, যার মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা এবং যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় মূলত মানবসম্পদ উন্নয়ন ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে এই কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে।
মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানো এবং প্রশিক্ষণের মান উন্নত করা। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা গেলে বিম্প-ইএজিএ অঞ্চলের কর্মশক্তির সক্ষমতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তির বিস্তার ও নতুন ধরনের কাজের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে এই আঞ্চলিক উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা একমত হয়েছেন যে, কেবল এককভাবে নয়, বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই শ্রমবাজারের আধুনিকায়ন সম্ভব। বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের শ্রম খাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা যায় সে বিষয়ে মতামত দেন।
প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকেও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই চারটি দেশ যৌথভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে কর্মীরা নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই আঞ্চলিক সহযোগিতাকে দীর্ঘমেয়াদী একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছে, যা পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
