মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ পথে সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ প্রদেশে প্রবেশের সময় আটজন বাংলাদেশিসহ মোট ১৬ জন অভিবাসী শ্রমিককে আটক করেছে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী। গত সোমবার দেশটির নৌবাহিনীর কয়েকটি ইউনিটের সমন্বয়ে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাঁদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে আটজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক এবং বাকি আটজন বাংলাদেশের নাগরিক।
অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার জন্য তাঁরা একটি দুই ইঞ্জিনের স্পিডবোট ব্যবহার করছিলেন। দুমাই শহরের পশ্চিম দুমাই জেলার পুরনামা এলাকার পানতাই পুরনামা উপকূলে পৌঁছানোর পরপরই নৌবাহিনীর সদস্যরা তাঁদের ঘিরে ফেলে এবং আটক করে। দুমাই নৌঘাঁটির প্রধান কর্নেল আগুং এন কুসুমাঝি এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত রোববার সন্ধ্যায় পানতাই মুতিয়ারা উপকূলের একটি অবৈধ ঘাট দিয়ে ইন্দোনেশীয় ও বাংলাদেশিদের এই দলটির দেশে প্রবেশের পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়।
এই তথ্যের ভিত্তিতেই নৌবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কর্নেল আগুং এন কুসুমাঝি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরপরই একটি যৌথ দলকে পানতাই পুরনামার জলসীমা ও উপকূলে তাঁদের পথরোধ, নজরদারি ও তল্লাশি চালানোর জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন নৌঘাঁটির গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধান ক্যাপ্টেন ওয়াহইউ উইদি বিদায়াত।
অভিযানে অংশ নেওয়া নৌবাহিনীর সদস্যদের তিনটি আলাদা দলে ভাগ করে পুরো এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। অভিযানে নৌঘাঁটির ‘কুইক রেসপন্স টিম’ ছাড়াও নৌবাহিনীর আরও কয়েকটি বিশেষ ইউনিট অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল ১ নম্বর আঞ্চলিক নৌ কমান্ডের সমুদ্র গোয়েন্দা ইউনিট ‘ইনটেলমার’ এবং ১ নম্বর নৌবহর কমান্ডের ইনটেলমার অপারেশনস টাস্কফোর্স।
নৌবাহিনীর এই দলগুলো সুঙ্গাই দুমাই মেরিটাইম পটেনশিয়াল পোস্ট থেকে অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য রওনা হয়েছিল। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নৌঘাঁটিতে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের এই ঘটনাটি ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে নজরে আসে। সাধারণত মালয়েশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত।
নৌবাহিনী জানিয়েছে, সমুদ্রপথে এই ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা নিয়মিত টহল জোরদার রেখেছে। আটককৃতদের পরিচয় এবং তাঁরা কেন এবং কীভাবে এই যাত্রার পরিকল্পনা করেছিলেন, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ইন্দোনেশিয়ার আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টার দায়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনার পর ওই উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা না ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও নৌবাহিনী যৌথভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি বজায় রেখেছে। আটকদের মধ্যে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
তবে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আটককৃতদের আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই পুরো অভিযানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ১৬ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে নৌবাহিনী।
