চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। বুধবার মিশরের রাজধানী কায়রোতে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে এক শীর্ষ বৈঠকে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। শি জিনপিং স্পষ্ট করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই অঞ্চলের জনগণের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার কায়রো পৌঁছান চীনা প্রেসিডেন্ট। এক দশক পর এটি তার প্রথম মিশর সফর। বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে শি জিনপিং ফিলিস্তিন ইস্যুকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান ছাড়া এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তাই এই ইস্যুটিকে কোনোভাবেই উপেক্ষা বা প্রান্তিক পর্যায়ে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বৈতনীতি পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অভিন্ন ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে চীন কাজ করতে আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শি জিনপিং বলেন, একতরফাবাদ এবং দাদাগিরিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চীন ও মিশর যৌথভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। বহিরাগত শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপের ফলে এই অঞ্চলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আঞ্চলিক দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।
মিশর ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ১৯৫৬ সালে মিশর সর্বপ্রথম চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১৯৯৯ সালে দুই দেশ কৌশলগত অংশীদারত্বে আবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এই সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করা হয়। কায়রোতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন।
শি জিনপিংয়ের এই সফর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে চীন যে একটি বড় ভূমিকা রাখতে চায়, তা এই আলোচনার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে অঞ্চলটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে শি জিনপিং মত প্রকাশ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, মিশর ও চীনের এই যৌথ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বৈঠকে উপস্থিত উভয় দেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। চীন ও মিশরের এই কূটনৈতিক তৎপরতা আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
