ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে মোকাবিলা করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং একটি সমন্বিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা। মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই নতুন কৌশলের রূপরেখা সম্পর্কে জানা গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান দিক হলো ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা করা হবে। তবে এই পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা এই কৌশল নিয়ে কাজ করছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে অন্তত দুটি বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বৈঠকে বিভিন্ন ধারণা উপস্থাপন করা হলেও পরিকল্পনাটি পুরোপুরি প্রস্তুত হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা প্রশমন করাও এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এর আওতায় গাজা উপত্যকায় চলমান পরিস্থিতির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টিও ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কৌশলের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ করা।
এর পাশাপাশি সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যদি সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে এটিকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার সামনে কিছু রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রেও মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে যে, ইসরায়েলের নির্বাচনের পর যে সরকার গঠিত হবে, তারা ওয়াশিংটনের এই নতুন মধ্যপ্রাচ্য কৌশলের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।
তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে চায় না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের পর যদি ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়, তবুও ট্রাম্প তার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী। তবে এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্র দেশ শেষ পর্যন্ত যুক্ত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পুরো বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় করার কাজ চলছে। যুদ্ধের পর পুরো অঞ্চলে কীভাবে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক কাঠামো তৈরি করা যায়, মূলত সেটিই এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা এই কৌশল বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও বেশ কিছু বিষয় পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এই পরিকল্পনা কতটা প্রভাব ফেলবে এবং মিত্র দেশগুলো এতে কেমন সাড়া দেবে, তা সময়ই বলে দেবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং এর বিস্তারিত রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
