পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। গত সোমবার বিকেলে কয়েকটি ফেসবুক পেজে অভিনেতার মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয়। এই ভিত্তিহীন সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সহকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।
তবে পরবর্তীতে এই তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ মোশন পিকচার্স আর্টিস্টস ফোরামের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। ফোরামের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ভুয়া খবরে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর অভিনেতা নিজেই একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের মৃত্যুর গুজব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং যারা এই ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন তাদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে মৃত্যু অনিবার্য এবং একদিন সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে, তবে ঈশ্বর যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন ততদিন তিনি বেঁচে থাকবেন।
যারা এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করছেন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর তথ্য প্রচার করার আগে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। তিনি একে শিক্ষার অভাব হিসেবে অভিহিত করেন। বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় তার দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্যবার খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি রসিকতা করে বলেন, পর্দায় তাকে খলনায়ক হিসেবে দেখলেও বাস্তবে তিনি রাজনৈতিক নেতাদের মতো অতটা খারাপ নন।
তার এই মন্তব্যে তার স্বভাবসুলভ রসবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অভিনেতার পরিবার, প্রতিবেশী এবং আর্টিস্ট ফোরামের সতীর্থরাও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়ানোর প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বয়সের ভারে বর্তমানে বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় অভিনয়ে আগের তুলনায় অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ‘অসুর’, ‘দুর্গ রহস্য’ এবং ‘সাবাস ফেলুদা’র মতো সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, তরুণ মজুমদার এবং তপন সিংহের মতো কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সিনেমা ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’র মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এরপর থেকে তিনি তার শক্তিশালী অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকদের মনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ভুয়া খবর ছড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও অনেক বরেণ্য ব্যক্তিকে নিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর নজির রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইন্টারনেটে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুজব ছড়ানো নৈতিকভাবে অপরাধ।
বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন প্রবীণ ও সম্মানিত শিল্পীকে নিয়ে এমন মিথ্যা তথ্য প্রচার করায় তার ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের ভুয়া পেজ ও প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিনেতা বর্তমানে তার পরিবারের সঙ্গে সুস্থভাবে সময় কাটাচ্ছেন এবং তিনি তার ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি ভালো আছেন।
তার সুস্থতার খবরে ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
