একজন ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্টের মাধ্যমে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ভারতীয় পাসপোর্টধারী গৌতম মিস্ত্রি নামের ওই ব্যক্তির মরদেহ তার স্ত্রীর সাথে সাথে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থিক ও দাপ্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, গত ২২ আগস্ট গৌতম মিস্ত্রি তার স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রিকে নিয়ে ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তারা বরিশালে তাদের আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
গত বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, দেশে ফেরার পথে বেনাপোলে এসে গৌতম মিস্ত্রি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। তার পাসপোর্ট নম্বর ঞ-৩৩৬১৬১১। তিনি কলকাতার কালিয়া নগর সুরিয়া সেন পল্লীর রমনী মিস্ত্রির ছেলে বলে জানা গেছে।
মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি মরদেহটি নিয়ে ভারতে ফেরার বিষয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন। তিনি জানান, এই কঠিন সময়ে তার নিজের ভাই এবং আত্মীয়স্বজনরা তাকে সাহায্য করতে আসেননি।
মরদেহটি প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয় এবং সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এরপর জাহানারা মিস্ত্রি একাই স্বামীর পাসপোর্ট এবং মৃত্যু সনদ নিয়ে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান।
// a bit more elaboration to reach word count requirement as per instructions.
জাহানারা মিস্ত্রি জানান, তারা দুই সপ্তাহ আগে বরিশালে বাবার বাড়ি এবং অন্যান্য আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বুধবার বেনাপোলে পৌঁছে গাড়ি থেকে নামার পর পরই তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, যে সময়ে তিনি অসুস্থ স্বামীর মরদেহ নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন, তার কাছে কোনো টাকা-পয়সা ছিল না। এই সময়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কিছু মানুষ তাকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি ঢাকা যাওয়া-আসা এবং খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন।
জাহanzaara মিস্ত্রি বলেন, তবে মরদেহ গাড়িতে তোলা এবং নামানো থেকে শুরু করে সব ধরণের মানবিক সাহায্য পেয়েছেন তিনি। তিনি বাংলাদেশের মানুষের মানবিকতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, গত বুধবার স্ট্রোকজনিত কারণে ওই ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সাইফুর রহমান আরও জানান, যে দিন ওই যাত্রী মারা গিয়েছিলেন, তার স্ত্রীর কাছে মৃত্যু সনদ এবং থানার সাধারণ ডায়েরি বা জিডি কপি ছাড়া আর কোনো কাগজপত্র ছিল না। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতীয় দূতাবাসের ছাড়পত্র পাওয়ার পর বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গৌতম মিস্ত্রির মরদেহটি পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।
