ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনানগর জেলায় প্রশিক্ষণের সময় যমুনা নদীতে প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে দেশটির বিশেষ বাহিনীর দুই সেনা নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে হাতনিকুণ্ড ব্যারাজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার ভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিখোঁজ দুই সেনাকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সমন্বয়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ১ প্যারা স্পেশাল ফোর্সেসের পাঁচজন সেনাসদস্য একটি নৌকায় করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। প্রশিক্ষণের এক পর্যায়ে নৌকাটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। প্রবল স্রোতের কারণে নৌকাটি হাতনিকুণ্ড ব্যারাজের ভাটির দিকে ভেসে যেতে শুরু করে। সেনাসদস্যরা নৌকাটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ব্যারাজের স্লুইস গেটের কাছে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিস্রোতে নৌকাটি আটকে যায়।
এক পর্যায়ে নৌকাটি উল্টে গেলে পাঁচ সেনাসদস্যই পানিতে পড়ে যান। চণ্ডীগড়ভিত্তিক প্রতিরক্ষা জনসংযোগ দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পর পাঁচ সেনার মধ্যে তিনজন সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বাকি দুই সেনাকে প্রবল স্রোত ভাটির দিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। নিখোঁজ সেনাদের উদ্ধারে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর পাশাপাশি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
স্থানীয় পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যরাও এই উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়েছেন। আকাশপথে তল্লাশি চালানোর জন্য দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান সহজ করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর অনুরোধে হরিয়ানা সেচ ও পানি সম্পদ বিভাগ হাতনিকুণ্ড ব্যারাজ ও ওয়েস্টার্ন যমুনা ক্যানালে পানির প্রবাহ কমিয়ে দিয়েছে। প্রতাপ নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক রোহতাশ জানিয়েছেন, নিখোঁজ সেনাদের উদ্ধারে একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চলছে।
তবে বুধবার পর্যন্ত নিখোঁজ সেনাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী দলগুলো ব্যারাজ এলাকা এবং এর ভাটির খালগুলোতে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। প্রতিকূল পরিবেশ এবং পানির প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নিখোঁজ সেনাদের পরিচয় বা তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ব্যারাজ সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। নিখোঁজ সেনাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে নিয়মিত আপডেট দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। যমুনা নদীর এই অংশে পানির স্রোত অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্লুইস গেটের আশেপাশের এলাকায় ঘূর্ণিস্রোত থাকায় ডুবুরি দলগুলোকেও সতর্কতার সাথে কাজ করতে হচ্ছে। নিখোঁজ সেনাদের খুঁজে বের করতে আধুনিক প্রযুক্তি এবং ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিখোঁজ সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পুরো এলাকাটি বর্তমানে উদ্ধারকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
