ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গলাডহরা কুসুমমণি এফটি স্কুলের পানির ট্যাংকে মরা পাখি ভেসে থাকার ঘটনা ঘটেছে। এই পানি ব্যবহার করেই স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার রান্না করা হতো এবং অন্যান্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালানো হতো। মঙ্গলবার এই বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
দুর্গন্ধ পাওয়ার পর ট্যাংকের ঢাকনা খুলে দেখা যায় যে, পানির ভেতরে একটি মরা পাখির দেহ ভাসছে। পচনের ফলে ওই পানিতে পোকাও জন্মেছিল। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মিড-ডে মিলের খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয়। ঘটনার প্রতিবাদে অভিভাবকরা স্কুল চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অভিভাবক তারক হালদার অভিযোগ করেন যে, পানির ট্যাংকে পাখিটি বেশ কয়েকদিন ধরে পড়ে ছিল, কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি লক্ষ্য করেনি।
তার ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এই পানি পান করছিল এবং এই পানি দিয়েই স্কুলের রান্নার কাজ চলছিল। বিষয়টি জানার পর অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুলে মাত্র তিনজন শিক্ষক কর্মরত আছেন, যাদের মধ্যে একজন প্যারাটিচার।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী কাকলি কবিরাজ মণ্ডল অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে স্কুলের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে, স্কুলের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই এমন অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পানির ট্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে অভিভাবকরা স্কুলের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্কুলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই ঘটনার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা প্রতিকারমূলক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন স্কুলের খাবার গ্রহণ করতে ভয় পাচ্ছে এবং অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। স্কুলের পানির বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য কোনো ধরনের নিয়মিত পরীক্ষা বা রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার পর থেকে স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অভিভাবকরা দাবি জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। স্কুলের অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব স্কুল প্রশাসনের ওপরই বর্তায়, যা এই ঘটনায় চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিভাবকরা মনে করছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
