ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় রবিবার দুপুরে দুটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ বেশ কিছু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে শিব মন্দিরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই সেখানে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলে অন্তত ১২টি দমকল বাহিনীর গাড়ি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, দিল্লি পুলিশ, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার কর্মীরা উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত চারজনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে দিল্লির এইমস ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কতজন মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ধসে পড়া ভবনটি মূলত শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য পেয়িং গেস্ট বা পিজি আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি এলাকা হওয়ায় সত্য নিকেতনে প্রচুর শিক্ষার্থী বসবাস করেন এবং সেখানে অসংখ্য হোস্টেল ও পিজি আবাসন রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ভবনটি ধসে পড়ার সময় ভেতরে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এই সংখ্যাটি এখনো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীই তাদের আবাসনে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনতে পেয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও জরুরি কর্মীদের সাথে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের কংক্রিটের স্ল্যাব ও লোহার বিম সরানোর জন্য খননকারী যন্ত্রসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাস্থলের আশেপাশে প্রচুর মানুষ ভিড় করেছেন এবং উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় বিধায়ক অনিল শর্মা। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এই এলাকায় পিজি আবাসনে থাকেন এবং এখনো অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আটকা পড়া কিছু শিক্ষার্থী ভেতর থেকে ফোন করার চেষ্টা করছেন।
উদ্ধারকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ধসে পড়া ভবনের পাশের ভবনটিও খালি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সব সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে আটকা পড়াদের দ্রুত উদ্ধার করা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়।
উদ্ধার অভিযানের গতি বাড়াতে সব ধরনের আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে বলে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন। ধসে পড়া ভবনটির কাঠামো এবং এর নির্মাণশৈলী নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বর্তমানে পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে যাতে উদ্ধারকাজে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলগুলো পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করবে বলে জানানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
