অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকদের পেনশন সুবিধার হারে ব্যাপক বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এই পেনশনের হার নির্ধারিত হয়। কিছু উন্নত দেশে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা যে পরিমাণ মাসিক ভাতা পান, তা অনেক দেশের পূর্ণকালীন চাকরির বেতনের চেয়েও বেশি।
পেনশনের হার, গড় মাসিক ভাতা এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের শীর্ষ দশটি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে লুক্সেমবার্গ। ইউরোপের এই দেশটিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মাসে গড়ে ৩ হাজার ৮৫০ থেকে ৪ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার পেনশন পান।
দেশটির পেনশন ব্যবস্থা পূর্ববর্তী উপার্জনের ৮৫ থেকে ৯২ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার সুবিধা নিশ্চিত করে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইসল্যান্ডে মাসিক গড় পেনশন ৩ হাজার ৪৫০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ ডলার। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন বৃদ্ধির ব্যবস্থার কারণে এখানে প্রতিস্থাপন হার ৭৮ থেকে ৮৫ শতাংশ।
তৃতীয় স্থানে থাকা নরওয়ে তাদের অবসরপ্রাপ্তদের মাসে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ ডলার ভাতা প্রদান করে, যেখানে প্রতিস্থাপন হার ৭২ থেকে ৮০ শতাংশ। ডেনমার্ক রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। দেশটিতে গড়ে ২ হাজার ৯৫০ থেকে ৩ হাজার ৪০৩ ডলার পেনশন দেওয়া হয় এবং নাগরিকরা তাদের আয়ের ৭৫ থেকে ৮২ শতাংশ ফেরত পান।
পঞ্চম স্থানে থাকা নেদারল্যান্ডসে মাসিক পেনশন ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২৫০ ডলারের মধ্যে। সেখানে ৭০ থেকে ৭৮ শতাংশ আয় নিশ্চিত করা হয়। সুইজারল্যান্ড তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে, যেখানে নাগরিকরা মাসে ২ হাজার ৭০৩ থেকে ৩ হাজার ১০০ ডলার পেনশন পান। দেশটির প্রতিস্থাপন হার ৬৮ থেকে ৭৫ শতাংশ।
সপ্তম স্থানে থাকা সুইডেনে গড় মাসিক পেনশন ২ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৯৫০ ডলার এবং প্রতিস্থাপন হার ৬৫ থেকে ৭৩ শতাংশ। ফিনল্যান্ড রয়েছে অষ্টম স্থানে, যেখানে নাগরিকরা গড়ে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ ডলার পেনশন পান। নবম স্থানে থাকা জার্মানি গড়ে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ ডলার পেনশন প্রদান করে।
তালিকার দশম স্থানে থাকা অস্ট্রিয়ায় গড় মাসিক ভাতা ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৬৫০ ডলার এবং প্রতিস্থাপন হার ৭০ থেকে ৭৬ শতাংশ। এই দেশগুলোর পেনশন ব্যবস্থার সাফল্যের মূল কারণ হলো উন্নত অর্থনৈতিক কাঠামো, শক্তিশালী জাতীয় তহবিল এবং বাধ্যতামূলক বেসরকারি সঞ্চয় নীতি। তবে উচ্চ পেনশনের পাশাপাশি এসব দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় ও করের হারও অনেক বেশি।
এদিকে, বাংলাদেশও প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে। প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি কাঠামোর মাধ্যমে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৪ কোটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
