যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদানের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল, যার ফলে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্যমতে, অভিবাসী ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের নীতিমালা পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই মূলত এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই পর্যালোচনার মূল লক্ষ্য ছিল এটি নিশ্চিত করা যে, যুক্তরাষ্ট্রে আগত অভিবাসীরা যেন আর্থিকভাবে স্বনির্ভর থাকতে পারেন এবং মার্কিন সরকারের ওপর কোনো ধরনের আর্থিক নির্ভরশীলতা তৈরি না করেন। এছাড়া, অভিবাসীরা যাতে অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন, সেটিও এই নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। স্থগিতাদেশ চলাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীরা ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পেলেও তাদের আবেদন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছিল না।
তবে এখন এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করায় আবেদনকারীরা নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং তাদের আবেদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক নিয়মে সম্পন্ন হবে। এই স্থগিতাদেশের তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, মিসর, ইরান, ইরাক, জর্ডান, কাজাখস্তান, কুয়েত, লিবিয়া, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, সিরিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেনসহ মোট ৭৫টি রাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় আবেদনকারীরা সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ পেলেও ভিসা প্রদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে ছিল। গত ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিকে বাতিল ঘোষণা করে একটি রায় প্রদান করেন। বিচারক জ্যানেট ভার্গাস তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন যে, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অভিবাসী ভিসা আবেদন সংক্রান্ত যে নীতি ঘোষণা করেছিল, তা আইনত অকার্যকর এবং কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের পরিপন্থী।
বিচারক ভার্গাস তাঁর রায়ে আরও স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, বিদ্যমান মার্কিন আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করে এই নীতি গ্রহণ করেছিলেন বলে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। বিচারক ভার্গাস তার রায়ে আরও বলেন, কোনো আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা প্রদান বন্ধ করার এই নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।
মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর কোনো ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তাদের। পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের যুক্তি হিসেবে বলেছিল যে, এই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি ছিল। স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ওপর তাদের নির্ভরশীলতা মার্কিন অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল।
তবে আদালতের রায়ের পর এখন সেই বাধা দূর হয়েছে এবং আবেদনকারীরা তাদের ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করতে পারবেন।
