আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন কি না অথবা তাঁর পরিবর্তে অন্য কেউ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন কি না, সে বিষয়ে ভারত সরকার এখনো নিশ্চিত নয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল শুক্রবার এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পরিবেশ গত ৫ আগস্টের পর থেকে কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে। ভারতের মাটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর সাক্ষাৎকার প্রদানকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, শেখ হাসিনা ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে ভার্চ্যুয়াল অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারবিরোধী প্রচারণা চালিয়েছেন। এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এবং তাঁর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিও জোরালো করা হয়। ভারত সরকারের কাছে তাঁকে সংযত রাখার অনুরোধও জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। রণধীর জয়সোয়াল তাঁর ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার এবং তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে করা মন্তব্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। সাংবাদিকরা যখন শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার এবং তাঁর নিরাপত্তা ও বিচারিক নিশ্চয়তা সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে জানতে চান, তখন মুখপাত্র জানান যে এ বিষয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য নেই।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই। এছাড়া, সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ এফসিসিতে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি বাতিল করেছে, যেখানে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের কথা ছিল। এই ঘটনাগুলো দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে এই অনিশ্চয়তা কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারত সরকার বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালেও, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে অন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতি এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে সৃষ্ট টানাপোড়েন এই সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, ভারত সরকার বর্তমানে এই বিষয়ে কোনো বাড়তি মন্তব্য করতে আগ্রহী নয়। সম্মেলনটি শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি। ফলে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে।
ভারত সরকার এই বিষয়ে কোনো নতুন তথ্য না থাকায়, সম্মেলনের দিনগুলোতে কী ঘটবে তা নিয়ে জল্পনা রয়েই গেছে। তবে ভারত সরকার তাদের আমন্ত্রণের অবস্থানে অটল রয়েছে এবং বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে, যদি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষ থেকেই চূড়ান্ত কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
