পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার রামপুরহাট মহকুমার কুসুম্বা গ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয় বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৩১ বছর বয়সী বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যান। তিনি পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায়ের কন্যা। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। তবে প্রাথমিক তদন্ত ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃষ্টির বাবা নীহার মুখোপাধ্যায় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এই মানসিক সমস্যার কারণে তাকে কয়েকবার কলকাতায় নিয়ে গিয়ে পুনর্বাসনকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল।
কিন্তু সেখানে চিকিৎসা করিয়েও খুব একটা ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃষ্টি বোলপুরের একটি বিদ্যালয়ে করণিক বা ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে পরবর্তীতে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই চাকরি হারানোর বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
কর্মসংস্থান হারানোর পর থেকেই তিনি তীব্র হতাশায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি নানা সমস্যার সম্মুখীন ছিলেন। তার স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলমান ছিল। পারিবারিক ও পেশাগত জীবনের এই জটিলতাগুলো তাকে একাকিত্ব ও বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। বাড়িতে তিনি প্রায়ই একাকী সময় কাটাতেন এবং মন খারাপ করে থাকতেন।
দীর্ঘ সময় ধরে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণে ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন নীহার মুখোপাধ্যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রামপুরহাট থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তারা পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে এবং বাড়ির আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আইনগতভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এই ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। বৃষ্টির মৃত্যু নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্তের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। বৃষ্টির কর্মস্থল ও তার ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন নথিপত্র এবং তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বৃষ্টির অকাল মৃত্যুতে তার স্বজনরা গভীরভাবে শোকাহত। তার মানসিক অবস্থার অবনতি এবং সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলি কীভাবে তার ওপর প্রভাব ফেলেছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তবে বর্তমানে পুরো বিষয়টি ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে।
