পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার রামপুরহাট থানার কুসুম্বা গ্রামে মমতা ব্যানার্জীর ভাতিজি বৃষ্টি মুখার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর সকালে নিজ বাড়িতে ২৮ বছর বয়সী এই তরুণীর মরদেহ পাওয়া যায়। বৃষ্টি মুখার্জি মমতা ব্যানার্জীর মামাতো ভাই নিহার মুখার্জির মেয়ে। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে বৃষ্টিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। তার গলায় সাদা রঙের কাপড় জড়ানো ছিল। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে রামপুরহাট থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। বৃষ্টি মুখার্জির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
তার আত্মীয় সন্ধ্যা মুখার্জি জানিয়েছেন, বৃষ্টির সঙ্গে কার্তিক ঘটকের ছেলে কৌশিক ঘটকের বিয়ে হয়েছিল। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল। বৃষ্টি মুখার্জির ১২ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহ বা ব্যক্তিগত কোনো সংকটের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
এছাড়া বৃষ্টি মুখার্জির বিরুদ্ধে অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগের বিষয়টিও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। রামপুরহাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না বা কোনো প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃষ্টির পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সময় বাড়িতে আর কারা উপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সব ধরনের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে রামপুরহাট থানার পুলিশ পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা এবং নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগের মতো বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান রেকর্ড করছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় এই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলছে। বৃষ্টির ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এবং তার বিরুদ্ধে থাকা আইনি অভিযোগগুলো তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশ স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছে যাতে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা যায়।
