সরাসরি
বাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাববাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব
International মিনিট পড়া
|১০০%|

প্রতিবেশীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে দুই বাড়ির মালিক কলম্বিয়ার নারী

প্রতিবেশীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে দুই বাড়ির মালিক কলম্বিয়ার নারী
প্রতিবেশীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে দুই বাড়ির মালিক কলম্বিয়ার নারী — বাংলা ধ্বনি

কলম্বিয়ার কুইন্দিও বিভাগের আর্মেনিয়া শহরে বসবাসকারী ৬৭ বছর বয়সী এক নারী প্রতিবেশীদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা তথ্য সংগ্রহ ও তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। মিরিয়াম নামের ওই নারী নিজেকে পেশাদার ‘চিসমোসা’ বা পরচর্চাকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি তার এই অদ্ভুত ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে দুটি বাড়ি কিনেছেন বলে দাবি করেছেন।

কনটেন্ট নির্মাতা লেডি দানিয়েলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার এই পেশার বিস্তারিত তুলে ধরেন। মিরিয়াম জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি বিষয় জানতে পছন্দ করেন এবং এই আগ্রহকেই তিনি আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন। তিনি তার পাড়ার মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন, পরকীয়া, পারিবারিক ঝগড়া এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেন।

এরপর আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছে এসব তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করেন। মিরিয়ামের ভাষ্যমতে, তিনি এই কাজকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেন এবং কোনো তথ্য বিক্রির আগে তা যাচাই করে নেন। তিনি দাবি করেন, তার কাছে থাকা তথ্যের সত্যতা প্রমাণের জন্য তিনি সবসময় একটি নোটবুক সঙ্গে রাখেন, যেখানে তিনি ঘটনার তারিখ ও সময়সহ বিস্তারিত লিখে রাখেন।

মিরিয়াম জানান, তার এই পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। তিনি বাড়ির বাইরে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে প্রতিবেশীদের কথাবার্তা শোনেন এবং তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি তার বাড়ির একটি বোর্ড প্রদর্শন করেন, যেখানে তিনি প্রতিবেশীদের ছবি ও তাদের ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন তথ্য সাজিয়ে রেখেছেন।

তিনি দাবি করেন, কিছু ছবিতে পরকীয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃশ্যও রয়েছে, যা তার কাছে পাড়ার ঘটনাবলির একটি ব্যক্তিগত আর্কাইভের মতো। তথ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী তিনি অর্থ দাবি করেন। সাধারণ তথ্যের জন্য তিনি কয়েক হাজার কলম্বিয়ান পেসো নিলেও সংবেদনশীল তথ্যের জন্য অনেক বেশি অর্থ আদায় করেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে জানান, একবার এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর পরকীয়ার তথ্য গোপন রাখার বিনিময়ে তাকে ৭ লাখ কলম্বিয়ান পেসো দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

মিরিয়াম তার আয়ের উৎস হিসেবে একটি বড় মাটির ব্যাংকের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি গসিপ বিক্রি থেকে পাওয়া কয়েন ও নোট জমা রাখেন। তিনি নিজেকে ‘গসিপের রানি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পরচর্চা তার রক্তে মিশে আছে এবং এটিই তার জীবন। তবে মিরিয়ামের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

অনেক প্রতিবেশী তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। মিরিয়াম জানান, শুরুতে অনেকে তার কাজের সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে তারাই কৌতূহলবশত তার কাছে তথ্য জানতে আসেন। তিনি আরও দাবি করেন, তার এই ব্যবসার ধরন দেখে এলাকার অন্যরাও একই কাজ করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও তথ্য সংগ্রহের দক্ষতার কারণে তিনি অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছেন।

মিরিয়ামের দাবি অনুযায়ী, তিনি এই পেশার মাধ্যমে নিজের দৈনন্দিন খরচ মেটানোর পাশাপাশি দুটি বাড়ি কিনতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি তার কাজের জন্য কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি বরং এটিকে একটি পেশাদার সেবা হিসেবেই উপস্থাপন করেছেন। তার এই অদ্ভুত জীবনধারা এবং ব্যবসার বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মিরিয়াম তার সংগৃহীত তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়েও বেশ সতর্ক থাকেন এবং ক্রেতাদের কাছে তথ্য হস্তান্তরের সময় অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করেন। তার এই ব্যবসায়িক মডেলটি মূলত মানুষের কৌতূহল এবং ব্যক্তিগত তথ্যের চাহিদাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। তিনি তার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, তথ্যের সঠিক ব্যবহার ও সংগ্রহ পদ্ধতি জানা থাকলে যেকোনো বিষয় থেকে আয় করা সম্ভব।

মিরিয়ামের এই কার্যক্রম কলম্বিয়ার আর্মেনিয়া শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি ও কৌতূহল তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT
মিজানুর রহমান তথ্যাদি সম্পাদকীয় যাচাইকৃত

বাংলা ধ্বনি নিউজরুমের নিবন্ধিত সাংবাদিক। তথ্য অনুসন্ধান, সামাজিক সচেতনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বাংলা ধ্বনি নিউজরুম বিশেষ বিশ্লেষণ

এই প্রতিবেদনটি বাংলা ধ্বনি নিজস্ব সম্পাদকীয় পরিষদ কর্তৃক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যাচাইকরণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটির ধারাবাহিক আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম
পাঠকদের প্রতিক্রিয়া
পরিবেশনায়: মিজানুর রহমান© 2026 Bangla Dhwani (বাংলা ধ্বনি)
সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ খবর

আরও পড়ুন

/ ১৫