নেপাল-তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে নয় দিন আটকে থাকার পর দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট কাদামাটি, পাথর ও বরফের বিশাল ঢল সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে তারা ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে তাদের নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হয়।
উদ্ধার অভিযানের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের মুখ আটকে থাকা ৫০ থেকে ৬০ মিটার বা প্রায় ১৬৪ থেকে ১৯৬ ফুট গভীর ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে উদ্ধারকারীরা ভেতরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। উদ্ধারকাজ বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতরে পৌঁছানোর পর ক্ষীণ সাড়া শুনতে পান। উদ্ধারকারীরা ভেতরে চিৎকার করে আশ্বস্ত করার পর ভেতর থেকে নেপালি ভাষায় মৃদু স্বরে ‘হুঞ্চা’ বা ‘হ্যাঁ’ সূচক শব্দ শোনা যায়।
এই সাড়াশব্দ পাওয়ার এক ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে উদ্ধারকারীরা ওই দুই ব্যক্তিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা এই উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। ইন্টারন্যাশনাল টানেলিং অ্যান্ড আন্ডারগ্রাউন্ড স্পেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আর্নল্ড ডিক্স এই উদ্ধার প্রক্রিয়াকে একটি অলৌকিক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে চলা এই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মধ্যে এই উদ্ধার অভিযান একটি বড় অগ্রগতি।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট এই দুর্যোগে এর আগে ১ হাজার ২৫০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। রসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গসহ বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আর্নল্ড ডিক্স উদ্ধারকারী দলকে দূর থেকে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন এবং তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য যাত্রা করেছেন। সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে শুরু থেকেই উদ্ধারকারীরা আশাবাদী ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের গভীরতা এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধার কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে সাড়া পাওয়ার পর দ্রুততার সাথে ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ সম্পন্ন করেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য তাদের দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। এই উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘ নয় দিন পর সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেপাল সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযানের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট এই বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেনের সরবরাহ এবং অন্যান্য প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দুই শ্রমিকের বেঁচে থাকা একটি বড় সাফল্য। উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে এবং নিখোঁজ অন্যদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
