নেপালের দারচুলা জেলার আপি হিমাল গ্রামীণ পৌরসভার ভাট্টার এলাকায় পাহাড়ধসের ফলে চৌলানি নদীর একটি অংশের গতিপথ আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই ঘটনাটি ঘটে। পাহাড়ের মাটি ও ধ্বংসাবশেষ নদীতে পড়ে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করায় নদী অববাহিকায় যে কোনো সময় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা অনুযায়ী, যদি নতুন করে পাহাড়ধস ঘটে, তবে নদীর গতিপথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে নদীতে পানি জমে গিয়ে হঠাৎ প্রবল স্রোতে নিচের দিকে নেমে আসতে পারে, যা নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করবে। এই ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে নদী সংলগ্ন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দারচুলার জেলা প্রশাসন নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে। তারা বাসিন্দাদের নির্দেশ দিয়েছে যে, জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে যেন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। বাসিন্দাদের সতর্ক করতে এবং সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য ওই এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।
এই নিরাপত্তাকর্মীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনে উদ্ধার ও জরুরি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেপালের সুদূরপশ্চিম প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী খগরাজ ভট্ট স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে বলেছেন।
নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে যে, এই মুহূর্তে চৌলানি নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে তারা পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। এছাড়া বালাঞ্চের নেপাল চামেলিয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা ঘাঁটির সদস্যদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করার কাজও করছেন।
চৌলানি নদী চামেলিয়া নামেও পরিচিত এবং এই নদীটির উৎপত্তি আপি হিমাল অঞ্চলে। পরবর্তীতে এই নদীটি মহাকালী নদীতে গিয়ে মিশেছে। উল্লেখ্য, মহাকালী নদী নেপাল ও ভারতের সীমান্তের একটি অংশ তৈরি করেছে।
সম্প্রতি নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই বন্যার কারণে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে চৌলানি নদীতে পাহাড়ধসের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নদীর গতিপথ আরও বন্ধ হয়ে গেলে জমে থাকা পানি হঠাৎ বেরিয়ে গিয়ে নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা তৈরি করতে পারে। এ কারণে নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
