ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে নাচের ক্লাসে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদের জেরে এক নারীকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মদ্যপ অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এই ঘটনার সময় দম্পতির দুই সন্তান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
নিহত নারীর নাম ইয়ামিনী কৃষ্ণলাল যাদব, তার বয়স ৩৮ বছর। অভিযুক্ত স্বামীর নাম কৃষ্ণলাল যাদব, যার বয়স ৪১ বছর। পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার কাজ শেষে বাড়ি ফিরে কৃষ্ণলাল তার স্ত্রী ইয়ামিনীকে নিজের এবং সন্তানদের জন্য খাবার তৈরি করতে বলেন। তবে ইয়ামিনী তখন আবাসনের ভেতরে অনুষ্ঠিত একটি নাচের ক্লাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তিনি রান্না করতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র তর্ক শুরু হয়।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, এই তর্ক একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। ওই সময় কৃষ্ণলাল মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তিনি দুই সন্তানের সামনেই স্ত্রীর গলা ও পেটে আঘাত করেন। আঘাত পাওয়ার পর ইয়ামিনী গলা ও পেটে তীব্র ব্যথার কথা জানান এবং স্বামীর কাছে ব্যথার ওষুধ আনতে অনুরোধ করেন। কৃষ্ণলাল একটি ওষুধের দোকানে গেলেও সেটি বন্ধ থাকায় তিনি ওষুধ ছাড়াই বাড়িতে ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে ইয়ামিনীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাতের কারণে তার পেট ফুলে যায়। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার শুরুতে পুলিশ এই মৃত্যুকে অস্বাভাবিক বা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইয়ামিনীর গলার হাড় ভেঙে গিয়েছিল এবং তার অন্ত্রে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
নিহতের ভাই জানিয়েছেন, শুরুতে পরিবারটি এই ঘটনাটিকে একটি মর্মান্তিক মৃত্যু হিসেবে ভেবেছিল। কিন্তু ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধ এবং পেটে গুরুতর আঘাতের আলামত পাওয়ার পর পুলিশ ইয়ামিনীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে। তিনি আরও জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আগেও ঝগড়া হতো এবং তার বোন মাঝে মাঝে বিষয়টি তাকে জানাতেন। তবে পারিবারিক বিষয়ে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে ইয়ামিনী তার পরিবারকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ করেছিলেন।
ময়নাতদন্তের ফল পাওয়ার পর পুলিশ কৃষ্ণলাল যাদবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
