দুবাইয়ের ফ্রিজ আল মুরার এলাকায় একজন বাবার কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার করেছে দুবাই পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটি তার বাবার সাথে বাড়ির কাছের একটি মুদি দোকানে গিয়েছিল। কেনাকাটা শেষ করে দোকান থেকে বের হওয়ার পর বাবা বুঝতে পারেন যে তার মেয়ে তার সাথে নেই।
প্রথমে বাবা ধারণা করেছিলেন যে শিশুটি হয়তো নিজেই বাড়িতে ফিরে গেছে। তবে বাড়িতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে মেয়েটি তার মায়ের কাছেও ফিরে যায়নি। এরপর আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে তিনি দুবাই পুলিশের কাছে খবর দেন।
পুলিশের জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশন্সের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে এই খবর পাওয়ার পর নাইফ পুলিশ স্টেশন তাৎক্ষণিকভাবে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দ্রুত এলাকার পুলিশ টহল দল এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে শিশুটির ছবি পাঠিয়ে দেয়। একই সাথে আশপাশের এলাকায় একটি সমন্বিত তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়।
তল্লাশির অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশের একটি টহল দল কাছের একটি সড়কে শিশুটিকে দেখতে পায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে যখন উদ্ধার করা হয়, তখন সে অত্যন্ত ভীত ছিল এবং কাঁদছিল। পুলিশ সদস্যরা তাকে নিরাপদে নাইফ পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান।
পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার পর ভিকটিম কমিউনিকেশন সেকশনের সদস্যরা শিশুটির যত্ন নেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আশ্বস্ত করা হয় এবং নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। পরবর্তীতে তার বাবা পুলিশ স্টেশনে পৌঁছালে শিশুটিকে তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু হওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে শিশুটি তার পরিবারের কাছে ফিরে পায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই দ্রুত উদ্ধার অভিযানটি সমন্বিত তল্লাশি এবং দ্রুত তথ্যের আদান-প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে দুবাই পুলিশের দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা এবং নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে তাদের বিশেষায়িত সেকশনের কার্যকারিতা ফুটে উঠেছে।
পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, এই ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখা অত্যন্ত জরুরি। নাইফ পুলিশ স্টেশনের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে শিশুটি নিরাপদে তার বাবার কাছে ফিরে যাওয়ার আগে তাকে মানসিক প্রশান্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ভিকটিম কমিউনিকেশন সেকশনের সদস্যরা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন যাতে তারা আতঙ্কিত শিশুদের সাথে কথা বলে তাদের ভয় দূর করতে পারেন।
