জার্মানি থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে ড্রাকন নামের একটি অত্যাধুনিক সাবমেরিন। জার্মানি ও ইসরায়েলের যৌথ পরিকল্পনা ও নির্মাণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তৈরি এই সাবমেরিনটি বর্তমানে সমুদ্রপথে ইসরায়েলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এটি ইসরায়েলকে সরবরাহ করা ষষ্ঠ সাবমেরিন।
জার্মানির কিল শহরে অবস্থিত জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থিসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস বা টিকেএমএস-এর শিপইয়ার্ড থেকে সাবমেরিনটি যাত্রা শুরু করেছে। এই সাবমেরিনটি ইসরায়েলি নৌবাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর কমান্ডার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, বার্লিনে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত এবং জার্মান নৌবাহিনীর কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন।
এই আয়োজনের মাধ্যমে সাবমেরিনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, ড্রাকন হলো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নৌবাহিনীর চুক্তির আওতায় নির্মিত ডলফিন শ্রেণির এআইপি সিরিজের তৃতীয় এবং সর্বশেষ সাবমেরিন। এই সিরিজের সাবমেরিনগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। ইসরায়েলকে বৈশ্বিক সামরিক প্রযুক্তির অগ্রভাগে রাখতে এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির নৌবাহিনীর সামরিক সক্ষমতা ও কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতা বাড়াতে এই সাবমেরিনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি নৌবাহিনীর কমান্ডার আইয়াল হ্যারেল এই সাবমেরিনটির যাত্রা শুরুর বিষয়টিকে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বহু বছরের চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা, উন্নয়ন, নির্মাণ, উদ্ভাবন এবং কঠোর পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ড্রাকন আজ বাস্তব রূপ পেয়েছে। নৌবাহিনী, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সাবমেরিন এখন নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু করেছে।
কমান্ডার আইয়াল হ্যারেল আরও বলেন, ড্রাকন সাবমেরিনটি ইসরায়েলি নৌবাহিনীর জন্য আরও উন্নত সক্ষমতা, দীর্ঘতর কার্যপরিসর এবং দীর্ঘ সময় মিশনে থাকার সক্ষমতা নিশ্চিত করবে। এছাড়া এটি উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি নিয়ে আসবে যা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রশিক্ষিত যোদ্ধা ও কমান্ডাররা দেশের বাইরে দূরবর্তী এলাকায় গোপনে ও নীরবে এই সাবমেরিনটি পরিচালনা করবেন।
এই সাবমেরিন পরিচালনার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের ওপরই ন্যস্ত থাকবে। ড্রাকন সাবমেরিনটির নির্মাণ ও সরবরাহের এই প্রক্রিয়াটি ইসরায়েল ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতার একটি অংশ। এই সাবমেরিনটি ইসরায়েলের নৌবহরে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে দেশটির সমুদ্রসীমা রক্ষা এবং কৌশলগত সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাবমেরিনটি বর্তমানে সমুদ্রপথে ইসরায়েলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি ইসরায়েলের নৌঘাঁটিতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং নৌবাহিনী এই সাবমেরিনটির মাধ্যমে তাদের নৌ-কৌশল আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দীর্ঘমেয়াদী এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইসরায়েল তাদের নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
ড্রাকন সাবমেরিনটি তার উন্নত প্রযুক্তি এবং সক্ষমতার কারণে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
