ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স গাজা সিটির জয়তুন এলাকায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৫৫ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত এই সকল ব্যক্তি মালকা পরিবারের সদস্য ছিলেন বলে সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
সিভিল ডিফেন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালকা পরিবারের ৬০ জনের বেশি সদস্যের মরদেহের সন্ধানে গত ৭২ ঘণ্টা ধরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। দীর্ঘ তিন দিনের এই অনুসন্ধান অভিযানের পর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের দেহাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের সময় মালকা পরিবারের সদস্যরা ওই ভবনটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সময়ে চালানো হামলায় ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং পরিবারের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। দীর্ঘ সময় পর এখন তাদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকৃত মরদেহ ও দেহাবশেষগুলোর বিষয়ে সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, উদ্ধার করা শরীরগুলো সম্পূর্ণ অবস্থায় পাওয়া যায়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে দেহাবশেষ হিসেবে পাওয়া গেছে। এই উদ্ধার অভিযানটি অত্যন্ত জটিল ছিল এবং ধ্বংসস্তূপের সরিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়েছে।
মালকা পরিবারের এই বিপুল সংখ্যক সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো নিখোঁজ থাকা বাকি সদস্যদের সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ৫৫ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, উদ্ধার করা এই সকল মরদেহ ও দেহাবশেষের জন্য আগামী সপ্তাহের শুরুতে একটি যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরিবারের সদস্যদের শেষ বিদায় জানাতে এই আয়োজনে স্থানীয় মানুষ এবং আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
গাজা সিটির জয়তুন এলাকাটি ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে ওই এলাকার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের সীমিত সম্পদের সাহায্যে এই কঠিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এই উদ্ধার অভিযানটি মালকা পরিবারের জন্য একটি চরম ট্র্যাজেডি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একটি পরিবারের এত বিপুল সংখ্যক সদস্যের একসাথে মৃত্যু এবং দীর্ঘ সময় পর তাদের দেহাবশেষ উদ্ধার পাওয়া যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পরিবারের বাকি সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি গাজা সিটির বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের মরদেহ উদ্ধার করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করে এই উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করেছে।
