ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন যে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে খেলার নিয়ম পুরোপুরি বদলে গেছে। রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে ইরান বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন বিধর্মী শক্তির বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
গালিবাফের মতে, এই পরিস্থিতি কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। তিনি তার বক্তব্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন যে, এই অভিযানের ফলে মার্কিন নেতারা গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছেন।
গালিবাফের ভাষ্যমতে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখন তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং জনমত প্রভাবিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, তারা যুদ্ধক্ষেত্রের কৃত্রিম ছবি এবং ভিডিও তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। গালিবাফ আরও বলেন যে, মার্কিন নেতাদের উচিত এই বাস্তবতাকে দ্রুত অনুধাবন করা।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে এবং আগ্রাসনকারীদের ঘাঁটিতে চালানো সাম্প্রতিক অভিযানটি ছিল কেবল একটি সূচনামাত্র। যদি তারা এই নতুন বাস্তবতাকে বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের জন্য অনেক দেরি হয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, খেলার নিয়ম এখন পরিবর্তিত হয়েছে এবং ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার ওপর যেকোনো ধরনের আঘাতের জবাব অত্যন্ত দ্রুত, কঠোর এবং বেদনাদায়কভাবে প্রদান করবে।
গালিবাফ মনে করেন, ইরান এখন এমন এক অবস্থানে রয়েছে যেখানে তারা যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। তার এই বক্তব্য ইরানের বর্তমান সামরিক কৌশল এবং বৈদেশিক নীতির একটি স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরান আর কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে নেই বরং তারা এখন আক্রমণাত্মক বা পাল্টা আঘাতের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা অনুসরণ করছে।
এই নতুন নীতি অনুযায়ী, যেকোনো উস্কানি বা হামলার জবাব হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। গালিবাফের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দিয়েছেন যে, ইরানের ধৈর্য বা সহনশীলতাকে দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করার কোনো সুযোগ নেই। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিল যে, তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।
পার্লামেন্টের স্পিকারের এই কঠোর অবস্থান ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি তার বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই যে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তা তার বক্তব্যে স্পষ্ট।
ইরানের এই নতুন সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। গালিবাফ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরান তার নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত এবং খেলার নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা সেই সংকল্পই ব্যক্ত করেছে।
