কে-পপ তারকা হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পথে লিসাকে ব্যক্তিগত জীবনের অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। নিজের একক প্রামাণ্যচিত্র ‘অলওয়েজ লালিসা’-তে লিসা জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি নিজের মতামত প্রকাশ করতেও ভয় পেতেন। এছাড়া কে-পপ সংস্কৃতির কঠোর নিয়মের কারণে তাঁকে প্রেমের সম্পর্কগুলোও সবসময় গোপনে রাখতে হয়েছে।
লিসা বলেন, কে-পপ সংস্কৃতিতে শিল্পীদের জন্য প্রেমের সম্পর্ক বজায় রাখা অসম্ভব বা নিষিদ্ধ। লিসা ২০১১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে তিনি ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিসা জানান, তখন তিনি নিজের মনের কথা বা ভাবনা প্রকাশ করার সাহস পেতেন না।
প্রশিক্ষণের সময় প্রতি মাসে তাঁকে নিজের পারফরম্যান্সের ভিডিও তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিতে হতো। সেই ভিডিওর প্রতিক্রিয়ার কথা স্মরণ করে প্রামাণ্যচিত্রে তাঁকে আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতে দেখা যায়। কে-পপ তারকাদের ব্যক্তিজীবনের ওপর যে কঠোর বিধিনিষেধ থাকে, তা লিসার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
তরুণ বয়সে তিনি একাধিকবার প্রেমে পড়লেও প্রতিটি সম্পর্কই আড়ালে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এর মূল কারণ ছিল ব্ল্যাকপিংকের মতো একটি জনপ্রিয় ব্যান্ডের সদস্য হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব যেন ব্যান্ডের জনপ্রিয়তায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেই ভয়। লিসার প্রথম একক স্টুডিও অ্যালবাম ‘অল্টার ইগো’ গত বছর প্রকাশিত হয়েছে।
এই অ্যালবামের গানগুলোতে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা গল্প উঠে এসেছে। এর মধ্যে ‘ড্রিম’ গানটি তাঁর অতীতের একটি গোপন সম্পর্কের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। গানটি প্রকাশের আগে লিসা তাঁর সেই সাবেক প্রেমিকের অনুমতি নিয়েছিলেন। সেই ব্যক্তি একটি শর্তে অনুমতি দিয়েছিলেন যে, তাঁর পরিচয় যেন কোনোভাবেই ভক্তদের সামনে প্রকাশ করা না হয়।
লিসার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেছে। ২০২৩ সাল থেকে ফরাসি বিলাসপণ্য প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের উত্তরসূরি ফ্রেদেরিক আর্নল্টের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্কের গুঞ্জন ছিল। তবে সম্প্রতি তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর থাই অভিনেতা ব্লু পংতিওয়াতের সঙ্গে লিসার প্রেমের নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
লিসার এই প্রামাণ্যচিত্রটি কে-পপ জগতের পর্দার পেছনের কঠোর বাস্তবতা এবং একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেছে। প্রশিক্ষণকালীন কঠোর নিয়ম, ক্যারিয়ারের চাপ এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে লিসা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। কে-পপ শিল্পীদের জন্য যে ধরনের সামাজিক ও পেশাদার বিধিনিষেধ থাকে, তা লিসার এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
লিসা জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে নিজের মতামত প্রকাশ করতে না পারার যে জড়তা ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে তাঁকে দীর্ঘ সময় ও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটিতে লিসার জীবনের এই পর্যায়গুলো বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে, যা তাঁর ভক্তদের কাছে তাঁর সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছে। লিসার এই অভিজ্ঞতা কে-পপ ইন্ডাস্ট্রির বাইরের মানুষের কাছেও একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে, যেখানে একজন বিশ্বখ্যাত তারকার ব্যক্তিগত জীবনের সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
