ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার গোলান দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকে ২৪ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। ইয়ার গোলান দাবি করেছেন যে, সারা নেতানিয়াহুকে তার সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায়, সারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় এই নেতা।
গত ৩১ আগস্ট ইসরায়েলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সারা নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার শুরুর দিকে ইয়ার গোলান গাজা সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় উপস্থিত ছিলেন। সারা নেতানিয়াহু তার মন্তব্যে এমন ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেন যে, প্রধানমন্ত্রী বা অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের জানার আগেই ইয়ার গোলান ওই এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিলেন।
এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইয়ার গোলান সারা নেতানিয়াহুকে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি সারা নেতানিয়াহু তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন এবং ক্ষমা না চান, তবে তার বিরুদ্ধে ২৫ লাখ ইসরায়েলি শেকেল বা প্রায় ৮ লাখ ২৬ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলা দায়ের করা হবে।
ইয়ার গোলান ঘোষণা করেছেন যে, যদি তিনি এই মামলায় জয়ী হন এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ পান, তবে সেই পুরো অর্থ তিনি নোভা উৎসবে হামলার শিকার হয়ে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তায় দান করবেন। সারা নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যকে ইয়ার গোলান একটি মিথ্যা ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ ঘটনাকে নতুনভাবে এবং বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
গোলান আরও বলেন, যখন সরকার দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন যারা মানুষের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন, তাদেরকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিত্রিত করার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ইয়ার গোলান দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, তার দল যদি ভবিষ্যতে সরকার গঠনের সুযোগ পায়, তবে তারা ৭ অক্টোবরের হামলার বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করবে।
এই কমিশনের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উন্মোচন করা হবে এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য যারা দায়ী, তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। ইয়ার গোলান ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন রিজার্ভ মেজর জেনারেল। তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি ইসরায়েলের উপ-অর্থমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সারা নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে এই আল্টিমেটাম বা আইনি নোটিশের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যে মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার গোলান তার অবস্থানে অটল থেকে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনাটি ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও ঘনীভূত করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সারা নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এবং তার প্রেক্ষিতে ইয়ার গোলানের এই কঠোর অবস্থান ইসরায়েলের জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবিটি এখন ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
