ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার হামেদান-সানান্দাজ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। সানান্দাজ শহরের গভর্নর জানিয়েছেন, জ্বালানি বহনকারী ওই ট্যাঙ্কারটির ব্রেকিং সিস্টেমে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সানান্দাজ ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের রাজধানী। এই ঘটনায় অন্তত আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হতাহতের এই সংখ্যা প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি।
ইরানের জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম এই দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে। ইরানের সড়কগুলোতে প্রায়ই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দেশটির সড়ক ব্যবস্থা, পুরনো যানবাহন এবং ভারী পণ্যবাহী যানের আধিক্যকে এই ধরনের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়। এর আগেও সানান্দাজ এলাকায় বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালে একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কার যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ধাক্কা খেলে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন।
সেই বাসটি যাত্রী তোলার জন্য থামানো ছিল। ইরানের সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনার গড় হারের তুলনায় ইরানে দুর্ঘটনার হার ২০ গুণ বেশি। দেশটির দুর্বল সড়ক অবকাঠামো এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে শিথিলতাকে এই উচ্চ হারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারান এবং আহত হন। ২০১৭ সালের মে মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এবং প্রায় ৮ লাখ মানুষ আহত হন।
এই পরিসংখ্যান ইরানের সড়ক নিরাপত্তার নাজুক অবস্থাকেই তুলে ধরে। দেশটির কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে কথা বললেও, বাস্তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। জ্বালানি ট্যাঙ্কারের মতো বিপজ্জনক পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল এবং সেগুলোর যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি এখন দেশটির জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ বা তদন্ত কমিটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের এই ঘটনাটি দেশটিতে সড়ক নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং পুরনো যানবাহনের ব্যবহারের বিপদকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
