ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ প্রদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত চার সেনাসদস্যের নাম রেজা মোহাম্মাদি, শাহরাম জাফারি, আলিরেজা শাকিবা এবং জাফর কাহরিজি। আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কেরমানশাহ প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন বাহিনীর হামলায় এই চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।
তারা তাদের দায়িত্ব পালনকালে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মর্যাদা ও শক্তির সীমান্ত রক্ষার সময় এই হামলার শিকার হন। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে এই হামলাকে মার্কিন শাসকগোষ্ঠীর বর্বর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের বান্দার-ই কুহেস্তাক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান এবং বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়।
ওই হামলায় এক শিশুসহ মোট পাঁচজন নিহত হন এবং আরও ৬৩ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। হরমোজগান প্রদেশের সেই হামলার ঘটনার পর ইরান পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল। ইরান দাবি করেছে যে, তাদের ওপর চালানো ওই হামলার জবাবে তারা পাঁচটি ভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেরমানশাহ প্রদেশের এই ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিহত চার সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশের পাশাপাশি আইআরজিসি তাদের দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নানা ধরনের সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কেরমানশাহ প্রদেশে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র বা কৌশল ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
তবে আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে হামলার ধরন ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। হরমোজগান প্রদেশের ঘটনার পর থেকে ইরান যে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় এই নতুন সংঘাতের ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই সংঘাতের প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই পরিস্থিতির চূড়ান্ত কোনো সমাধানের পথ দেখাতে পারেনি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সামরিক উত্তেজনার ফলে ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কেরমানশাহ প্রদেশের এই ঘটনাটি আইআরজিসির জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ নিহতরা অ্যারোস্পেস ফোর্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের সদস্য ছিলেন।
ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি এবং দুই দেশের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে পর্যবেক্ষণ চলছে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা দেশের মর্যাদা রক্ষায় যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
