কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ ভারতে প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা হারপার কলিন্স। শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশনা সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ১০ নভেম্বর বইটি ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে। এর আগে বইটি প্রকাশের জন্য পেঙ্গুইন র্যানডম হাউস ইন্ডিয়ার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
বইটির কিছু অধ্যায়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রকাশনা সংস্থাটি লেখককে তা সম্পাদনার অনুরোধ করেছিল। সোনিয়া গান্ধী সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় পেঙ্গুইন র্যানডম হাউস ২৮ আগস্ট বইটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই হারপার কলিন্স বইটি প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করে। হারপার কলিন্স তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বইটিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক স্মৃতিকথা হিসেবে অভিহিত করেছে।
তাদের ভাষ্যমতে, এটি ভালোবাসা, আত্মপরিচয়, কর্তব্য এবং একাত্মতাবোধের এক গভীর ব্যক্তিগত আখ্যান। বইটি ভারতীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে খুব কাছ থেকে দেখার একটি দলিল হিসেবে কাজ করবে। হারপার কলিন্সের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বইটির আখ্যান শুরু হয়েছে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সেখানে ১৯ বছর বয়সী ছাত্রী থাকাকালীন সোনিয়া মাইনোর সঙ্গে রাজীব গান্ধীর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে।
রাজীব গান্ধী পরবর্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। সোনিয়া গান্ধী সাধারণত জনসমক্ষে খুব অল্প কথা বলেন এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখেন। তবে এই আত্মজীবনীতে তিনি তাঁর শৈশব এবং যুদ্ধপরবর্তী ইতালির ভেনেতো অঞ্চলের জীবনের কথা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। সেই জীবন থেকে কীভাবে তিনি ভারতে এসেছেন এবং পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের মৃত্যু কীভাবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেছে, তা এই বইয়ের মূল উপজীব্য।
ঘটনাপ্রবাহ কীভাবে তাঁর জীবনকে গড়ে তুলেছে এবং বদলে দিয়েছে, তার একটি বিস্তারিত বিবরণ তিনি এই বইয়ে লিপিবদ্ধ করেছেন। পেঙ্গুইন র্যানডম হাউসের সরে আসার কারণ হিসেবে বিভিন্ন মহলে রাজনৈতিক চাপের কথা আলোচিত হলেও, সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে যে এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল এবং এর পেছনে বাইরের কোনো প্রভাব নেই।
তবে এর আগেও পেঙ্গুইন র্যানডম হাউস বিতর্কিত বিষয়বস্তুর কারণে কিছু বই প্রকাশ থেকে বিরত থেকেছে। এর মধ্যে ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবনের লেখা ‘ফোর স্টার্স অব ডেস্টিনি’ এবং মুজফ্ফনগর দাঙ্গার ওপর ভিত্তি করে লেখা জো সাকোর ‘দ্য ওয়ান্স অ্যান্ড ফিউচার রায়ট’ উল্লেখযোগ্য। সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনীতে নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়া, আরএসএস এবং পূর্ব লাদাখে চীনা আগ্রাসন নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই বিষয়গুলো নিয়েই মূলত আগের প্রকাশনা সংস্থাটি আপত্তি জানিয়েছিল। সোনিয়া গান্ধী সেই অংশগুলো সম্পাদনা করতে রাজি না হওয়ায় চুক্তিটি বাতিল হয়। হারপার কলিন্স এখন বইটি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ১০ নভেম্বর তা পাঠকদের হাতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকাশনার মাধ্যমে সোনিয়া গান্ধীর জীবনের অজানা অনেক অধ্যায় জনসমক্ষে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বইটি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে বলে প্রকাশনা সংস্থাটি মনে করছে।
