সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আলিফ আহমেদ চন্দন নামে কিশোরগঞ্জের এক যুবক নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের আবহা শহরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আলিফ আহমেদ চন্দন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোরুড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি প্রায় সাত বছর ধরে সৌদি আরবের আবহা শহরে একটি কোম্পানিতে ক্লিনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আলিফ আহমেদ চন্দন প্রবাসজীবন শেষ করে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তার বাবা আবদুল হাইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে, বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বিমানে উঠবেন এবং শুক্রবার সকাল সাতটায় ঢাকায় পৌঁছাবেন। বাবাকে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেছিলেন তিনি।
কিন্তু দেশে ফেরার সেই যাত্রা আর সম্পন্ন হয়নি। আবহা শহর থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আলিফকে বহনকারী প্রাইভেটকার ও একটি মালবাহী লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় আলিফ আহমেদ চন্দনসহ কয়েকজন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর আলিফের পরিবারের সদস্যরা খবরটি জানতে পারেন। আলিফের বাবা আবদুল হাই জানান, সাত বছর পর ছেলেকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
ছেলেকে বিমানবন্দরে বরণ করার জন্য তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দের পরিবর্তে এখন ছেলের মরদেহ দেশে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তিনি। তিনি জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকেই তার মন অস্থির ছিল। পরে ছেলের নম্বরে ফোন করলে দুর্ঘটনার কথা জানতে পারেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর তাকে জানানো হয় যে তার ছেলে আর বেঁচে নেই।
আলিফের ভগ্নিপতি ইব্রাহিম মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আলিফের মুঠোফোনে কল দিলে অন্য একজন ধরেন এবং দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে। আলিফের চাচাতো ভাই কাদির মিয়া জানান, পরিবারের সবাই আলিফের ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু যে দিন তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল, সেই দিনই তার জীবনের শেষ দিন হয়ে দাঁড়াল।
দুই বোনের একমাত্র ভাই আলিফের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলিফের বাবা আবদুল হাই তার ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি তার ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চান এবং নিজের জমিতে তাকে সমাহিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আলিফের পরিবারের সদস্যরা এখন কেবল তার মরদেহ দেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সাত বছর পর দেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসজীবন শেষ করতে যাওয়া আলিফের এই অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।
