যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে গত বুধবার এক বন্দুকধারীর গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র গ্যারেট পার্টেন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন। গ্যারেট পার্টেন জানান, বন্দুক হামলার ঘটনার পর সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও মারা গেছেন। তবে ওই ব্যক্তি কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে মারা গেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থলেই একজন ব্যক্তি নিহত হন। এছাড়া আহত অবস্থায় চারজনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং চিকিৎসকদের ধারণা অনুযায়ী তাঁদের জীবন নিয়ে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই। তৃতীয় পুলিশ সদস্যের আঘাতের ধরন সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। ঘটনার পর মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ জনগণের প্রতি মিনেসোটার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন যে, তাঁর সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ করছেন। তদন্তের স্বার্থে তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনার বিষয়ে পরবর্তীতে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করা হবে, যেখানে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। মিনিয়াপোলিস শহরে এই বন্দুক হামলার ঘটনাটি স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এর আগেও এই শহরে বিভিন্ন সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে এই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। ঘটনার সময় ওই এলাকায় উপস্থিত থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে পুলিশ। বন্দুকধারীর পরিচয় এবং হামলার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
এফবিআই এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত পরিচালনা করছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা চলছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। স্থানীয় সময় বুধবারের এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
এই ঘটনার পরবর্তী আপডেট দেওয়ার জন্য শহর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবে বলে জানানো হয়েছে।
