মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের সংকট নিরসনে সরকারি প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিদেশে চলে যাওয়া চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনাগুলোকে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে হলিউডের প্রভাবশালী তিনটি শ্রমিক ইউনিয়ন।
এর মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব থিয়েট্রিক্যাল স্টেজ এমপ্লয়িজ, স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড-আমেরিকান ফেডারেশন অব টেলিভিশন অ্যান্ড রেডিও আর্টিস্টস এবং টিমস্টার্স লোকাল ৩৯৯। এই ইউনিয়নগুলো কংগ্রেসের কাছে দ্রুত এ বিষয়ে আইন পাস করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। ইউনিয়নগুলোর ভাষ্যমতে, সরকারি প্রণোদনা চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এর ফলে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও আর্থিকভাবে লাভবান হবে। স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড-আমেরিকান ফেডারেশন অব টেলিভিশন অ্যান্ড রেডিও আর্টিস্টস-এর সভাপতি শন অ্যাস্টিন এবং জাতীয় নির্বাহী পরিচালক ডানকান ক্র্যাবট্রি-আয়ারল্যান্ড এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনা হলো বিনোদন শিল্পের মূল প্রাণশক্তি।
তাদের মতে, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে ট্রাম্পের এই প্রণোদনা উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই উদ্যোগের নেপথ্যে অভিনেতা ও ইউনিয়ন সদস্য জন ভয়েটের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলে ইউনিয়নটি নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্প তাকে হলিউডের বিশেষ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন শিল্প বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের অনেক কাজ এখন কানাডাসহ অন্যান্য দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। এর ফলে হলিউডের পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিল্পটিকে ঘুরে দাঁড় করাতে কর ছাড়ের পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, সরকার এখন যে প্রণোদনা প্রদান করবে, ভবিষ্যতে তার চেয়ে অনেক বেশি রাজস্ব সরকারি কোষাগারে ফেরত আসবে।
তবে এই প্রস্তাবিত প্রণোদনার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এ বিষয়ে কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফও এই আর্থিক সহায়তা আইন পাসের পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। এদিকে হলিউডের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে ক্যালিফোর্নিয়া সরকারও চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পে কর ছাড়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।
মহামারি, হলিউডের ধর্মঘট এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলের নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে শিল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে রাজ্যটি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ফিল্ম ও টেলিভিশন কর ছাড়ের পরিমাণ ৭৫০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। এর আগে ২০২৫ সালে বিদেশে নির্মিত সিনেমার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রযোজনা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকারি প্রণোদনার ওপর জোর দিচ্ছেন। মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান চার্লস রিবকিনও এই উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণ কার্যক্রম পুনরায় গতিশীল করা সম্ভব হবে।
