যুক্তরাজ্যের ডোভার বন্দরে মুখোশধারী শতাধিক মানুষের বিক্ষোভের ফলে ব্যাপক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কালো পোশাক পরিহিত এবং মুখ ঢাকা অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা বন্দরের আশপাশের সড়কগুলো অবরোধ করে রাখে, যার ফলে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে রাখার সময় ‘নৌকা থামাও’ স্লোগান দিচ্ছিলেন। কেন্ট পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাদের বন্দর এলাকা থেকে সরিয়ে ডোভার প্রাইওরি রেলস্টেশনের দিকে নিয়ে যায় এবং দুপুর ১২টার মধ্যে তারা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
যুক্তরাজ্য সরকার এক বিবৃতিতে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বিক্ষোভের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে যে বিঘ্ন ঘটেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, ডোভার ওয়েস্ট এলাকার স্থানীয় পরিষদ সদস্য পল কিং জানান, তার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এটি ছিল অবৈধ অভিবাসীদের ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ।
ঘৃণা ও উগ্রবাদবিরোধী সংগঠন ‘হোপ নট হেট’ দাবি করেছে যে, উগ্র ডানপন্থি সংগঠন ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’ এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, গত জুলাই মাস থেকে এই সংগঠনটি বিভিন্ন অভিবাসীবিরোধী গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে বৈঠক শুরু করে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজনকে একত্রিত করে এই কর্মসূচি পালন করেছে।
উগ্র ডানপন্থি কর্মী টমি রবিনসন এবং ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত ড্যানি থমাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিক্ষোভের প্রশংসা করেছেন। তবে কেন্ট পুলিশ বিক্ষোভের আয়োজকদের পরিচয় সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি, তবে তাদের মধ্যে কেউ একজন ‘তাদের ফিরিয়ে পাঠাও’ এবং অন্য একজন ‘নৌকা থামাও’ বলে স্লোগান দেন।
ডোভার ও ডিল এলাকার সংসদ সদস্য মাইক ট্যাপ জানান, সকাল প্রায় ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু মানুষ ডোভারে এসে কালো পোশাক ও মুখোশ পরে বন্দরের দিকে যাওয়ার সড়কগুলো অবরোধ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, শুধু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য বাইরে থেকে লোকজনের ডোভারে আসা বন্ধ হওয়া উচিত।
সংসদ সদস্য মাইক ট্যাপ আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক বিক্ষোভকারী হয়তো জানেনই না যে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে এবং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
বিক্ষোভের পর ডোভার বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে এবং শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সব সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম চলাকালে ধৈর্য ধরার জন্য যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।
বিভিন্ন নৌযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভের কারণে যেসব যাত্রী তাদের নির্ধারিত সময়ের যাত্রা মিস করেছেন, তাদের পরবর্তী যাত্রায় ওঠার ব্যবস্থা করা হবে। নেদারল্যান্ডস থেকে আসা এক যাত্রী জানান, গাড়ি নিয়ে নৌ টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার সময় তিনি আর সামনে এগোতে পারেননি কারণ বিক্ষোভকারীরা সড়ক ও গোলচত্বর অবরোধ করে রেখেছিল।
লন্ডনের একজন ভ্রমণপথপ্রদর্শক জানান, তিনি পর্যটক দলের সদস্যদের নিতে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ওই এলাকায় ছিলেন এবং পুরো পরিস্থিতি ছিল চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ।
