মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর মস্কো পৌঁছেছেন। রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, তারা মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। এই সফরের প্রেক্ষাপটে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে তিন দিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত থেকে ইউক্রেনে হামলা বন্ধের এই নির্দেশ কার্যকর হবে। মার্কিন প্রতিনিধিদের এই বিশেষ সফরের সময় যুদ্ধবিরতির এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মস্কো সময় দুপুর ১২টা ৫২ মিনিটে মার্কিন প্রতিনিধিদের বহনকারী বিমানটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তাদের স্বাগত জানান রাশিয়ার বিনিয়োগ ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক বিশেষ প্রেসিডেন্ট দূত এবং রুশ ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মহাপরিচালক কিরিল দিমিত্রিয়েভ।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, রাশিয়ায় স্টিভ উইটকভ এবং জ্যারেড কুশনার সবসময় স্বাগত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তাদের সঙ্গে কাজ করতে মস্কো আনন্দিত।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আরও জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক এবং আলোচনা শেষ হওয়ার পর এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবে ক্রেমলিন।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার উদ্যোগ এগিয়ে নিতেই স্টিভ উইটকভ এবং জ্যারেড কুশনার এই মস্কো সফর করছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা।
মস্কোর সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ করার পর মার্কিন প্রতিনিধিরা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গিয়ে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এই সফরের মাধ্যমে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই নির্দেশনার ফলে ইউক্রেনের বিভিন্ন প্রান্তে তিন দিনের জন্য সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এই সময়সীমার মধ্যে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সফরটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিনের যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় মধ্যস্থতা শুরু হয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের উপস্থিতি এই আলোচনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, এই সফর এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতির নির্দেশ ইউক্রেন সংকটের একটি সম্ভাব্য সমাধান খোঁজার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার পর কিয়েভ সফরের পরিকল্পনা এই প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
