সরাসরি
বাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাববাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব
International মিনিট পড়া
|১০০%|

মাত্র একজন স্থায়ী বাসিন্দা নিয়ে টিকে আছে স্বঘোষিত রাষ্ট্র সিল্যান্ড

মাত্র একজন স্থায়ী বাসিন্দা নিয়ে টিকে আছে স্বঘোষিত রাষ্ট্র সিল্যান্ড
মাত্র একজন স্থায়ী বাসিন্দা নিয়ে টিকে আছে স্বঘোষিত রাষ্ট্র সিল্যান্ড — বাংলা ধ্বনি

ইংল্যান্ডের উপকূল থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে উত্তর সাগরে অবস্থিত প্রিন্সিপালিটি অব সিল্যান্ড নামক একটি ক্ষুদ্র ভূখণ্ড বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত স্বঘোষিত রাষ্ট্র বা মাইক্রোনেশন হিসেবে পরিচিত। আয়তনের দিক থেকে অত্যন্ত ক্ষুদ্র এই জায়গাটি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর তৈরি একটি সমুদ্র দুর্গ, যা রাফস টাওয়ার নামে পরিচিত ছিল।

বর্তমানে এই দুর্গটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন মাত্র একজন ব্যক্তি। একসময় এই দুর্গে ২৭ জন বাসিন্দা থাকলেও সময়ের বিবর্তনে সেই সংখ্যা কমে বর্তমানে মাত্র একজন স্থায়ী বাসিন্দায় দাঁড়িয়েছে। এই একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দা দুর্গের রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের দায়িত্বও পালন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান বিমান হামলা ও সমুদ্রপথে আক্রমণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে ব্রিটিশ বাহিনী উত্তর সাগরে এই ধাতব কাঠামোটি নির্মাণ করেছিল।

যুদ্ধের পর ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী দুর্গটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর ১৯৬৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ নাগরিক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর প্যাডি রয় বেটস এই দুর্গটি দখল করেন। তিনি মূলত একটি পাইরেট রেডিও স্টেশন পরিচালনার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এই দুর্গটিকে ব্রিটেনের অংশ নয় বলে ঘোষণা করেন এবং নিজেকে এর শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তিনি এই স্থানটির নাম দেন প্রিন্সিপালিটি অব সিল্যান্ড। রয় বেটস এই স্বঘোষিত রাষ্ট্রের জন্য নিজস্ব পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সংগীত, পাসপোর্ট, ডাকটিকিট ও মুদ্রা প্রবর্তন করেন। সিল্যান্ডের নিজস্ব মুদ্রার নাম সিল্যান্ড ডলার, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত না হলেও সংগ্রহযোগ্য মুদ্রা হিসেবে পরিচিত। বেটস পরিবার বংশানুক্রমিকভাবে এই রাষ্ট্রের শাসনভার পরিচালনা করে আসছে।

রয় বেটসের মৃত্যুর পর তার ছেলে মাইকেল বেটস বর্তমানে এই স্বঘোষিত রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ করেছেন। সিল্যান্ডের সরকারি ওয়েবসাইটে নিজেদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মানদণ্ডে সিল্যান্ড কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র নয়। এটি জাতিসংঘের সদস্য নয় এবং বিশ্বের কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে সিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে মাইক্রোনেশন বা স্বঘোষিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসত্তা হিসেবে অভিহিত করা হয়। সিল্যান্ডের ইতিহাসে বেশ কিছু নাটকীয় ঘটনা রয়েছে। ১৯৬৮ সালে ব্রিটিশ আদালত এই দুর্গের ওপর নিজেদের আইনি এখতিয়ার প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, যা সিল্যান্ডের সমর্থকরা তাদের দাবির পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এছাড়া ১৯৭৮ সালে একদল জার্মান ও ডাচ ভাড়াটে যোদ্ধা দুর্গটি দখল করে মাইকেল বেটসকে জিম্মি করেছিল। পরবর্তীতে রয় বেটসের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে দুর্গটি পুনর্দখল করা হয়। এই ঘটনার পর সিল্যান্ডের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে আরও বৃদ্ধি পায়। যদিও সিল্যান্ডের স্থায়ী বাসিন্দা বর্তমানে মাত্র একজন, তবুও এর নিজস্ব দাবি অনুযায়ী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের নাগরিক ও সমর্থকদের একটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রয়েছে।

দুর্গটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের বিষয়টি আলাদা হলেও, এর প্রতীকী রাষ্ট্রকাঠামো এবং দীর্ঘ ইতিহাস একে বিশ্বের অন্যতম কৌতূহল উদ্দীপক স্থানে পরিণত করেছে। আজও উত্তর সাগরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই ধাতব দুর্গটি সিল্যান্ডের অস্তিত্বের প্রতীক হিসেবে টিকে আছে। আয়তন, জনসংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব পতাকা, মুদ্রা ও রাজপরিবারের মতো বৈশিষ্ট্যগুলো সিল্যান্ডকে অন্যান্য মাইক্রোনেশন থেকে আলাদা করেছে।

বর্তমানে এই দুর্গটি বিভিন্ন ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসার উদ্যোগ এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT
তাসনিম আরা তথ্যাদি সম্পাদকীয় যাচাইকৃত

বাংলা ধ্বনি নিউজরুমের নিবন্ধিত সাংবাদিক। তথ্য অনুসন্ধান, সামাজিক সচেতনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বাংলা ধ্বনি নিউজরুম বিশেষ বিশ্লেষণ

এই প্রতিবেদনটি বাংলা ধ্বনি নিজস্ব সম্পাদকীয় পরিষদ কর্তৃক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যাচাইকরণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটির ধারাবাহিক আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম
পাঠকদের প্রতিক্রিয়া
পরিবেশনায়: তাসনিম আরা© 2026 Bangla Dhwani (বাংলা ধ্বনি)
সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ খবর

আরও পড়ুন

/ ১৫