ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন ধসে পড়েছে। রোববার দুপুরে ঘটা এই দুর্ঘটনায় ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু শিক্ষার্থী আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভবনটি মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য পেয়িং গেস্ট বা পিজি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ঘটনাস্থলে স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি অবস্থিত সত্য নিকেতন এলাকাটি শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ধসে পড়া ভবনটির নাম হোস্টেল ডেজ। এটি মূলত পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত হতো এবং এতে ৭৫টি শয্যা ছিল। রোববার ছুটির দিন হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভবনের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ভবনের ভেতরে থাকতে পারেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অনেকের বাঁচাও বাঁচাও আর্তনাদ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও দমকল বাহিনীর অন্তত ১২টি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য এক্সকাভেটর বা ভেকুসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং দাঙ্গা দমন টিম মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকাজের গতি বাড়াতে সব সংস্থাকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু। তিনি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিচালনা করা হচ্ছে। আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, যথাযথ নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণের ফলেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ভবনটির নির্মাণশৈলী বা অনুমোদনের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বর্তমানে পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভিড় সামলাতে পুলিশ কাজ করছে।
উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন যাতে ভেতরে আটকা পড়া ব্যক্তিদের আরও কোনো ক্ষতি না হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভবনটি ধসে পড়ার সময় বিকট শব্দ শোনা গিয়েছিল এবং চারপাশ ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। আশপাশের বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছেন। দিল্লির আবহাওয়া এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি উদ্ধারকাজে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করলেও দমকল বাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ভবনটি ধসে পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো উদঘাটিত হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকাজই তাদের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর জন্য পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো এলাকাটিতে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের খোঁজে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসছেন।
প্রশাসন থেকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে যেন উদ্ধারকাজে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না হয়।
