ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। বসিরহাট মহকুমা পুলিশের একটি দল ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় এই মাদকদ্রব্য জব্দ করে। একই সঙ্গে পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাসসহ মুকেশ শর্মা নামের এক ভারতীয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মুকেশ শর্মা ভারতের হাওড়া জেলার বাসিন্দা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বসিরহাট মহকুমা পুলিশের একটি দল ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তের দিকে যাওয়ার পথে মেরুদণ্ডী সুইচ গেট এলাকায় সন্দেহজনক একটি মাইক্রোবাস দেখতে পায়। পুলিশ সদস্যরা গাড়িটিকে থামিয়ে তল্লাশি শুরু করলে এর ভেতরে লুকানো অবস্থায় দশটি বড় বাক্স পাওয়া যায়।
বাক্সগুলো খোলার পর তার ভেতর থেকে মোট ১২০০ বোতল নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি পুলিশকে জানিয়েছে যে, সে শিয়ালদহ এলাকার একটি বাজার থেকে এই মাদকের চালানটি সংগ্রহ করেছিল। এরপর সে গাড়িটি নিয়ে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
তবে এই পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে বা এর পেছনে বড় কোনো নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। বসিরহাট মহকুমা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এবং মাদকের উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে তাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গ্রেফতারকৃত মুকেশ শর্মাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। ফেনসিডিল মূলত একটি কাফ সিরাপ হিসেবে পরিচিত হলেও এটি মাদক হিসেবে ব্যবহারের কারণে ভারত ও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ।
সীমান্ত দিয়ে এই ধরনের মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযান পরিচালনা করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই সীমান্তে মাদক পাচারের বেশ কিছু ঘটনা সামনে এসেছে, যার ফলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের বাজারমূল্য এবং এর গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তদন্ত শেষ হওয়ার পর জানা যাবে বলে পুলিশ আশা করছে।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে বসিরহাট মহকুমা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য পাচারের এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আপাতত এর চেয়ে বেশি তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে পাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
