ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট বা স্তনবর্ধক কৃত্রিম প্রোস্থেসিস ব্যবহারের ফলে নারীদের মধ্যে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা এফডিএ এই বিষয়ে দফায় দফায় শুনানি পরিচালনা করেছে, যেখানে প্লাস্টিক সার্জন, ইমপ্ল্যান্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা নারীরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
শুনানিগুলোতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট-অ্যাসোসিয়েটেড অ্যানাপ্লাস্টিক লার্জ সেল লিম্ফোমা নামক এক ধরনের ক্যান্সারের কথা উঠে এসেছে। এই ক্যান্সারটি স্তন ইমপ্ল্যান্টের চারপাশে তৈরি হওয়া দাগের টিস্যুতে শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৪৫৭ জন নারীর শরীরে এই বিশেষ ধরনের ক্যান্সার শনাক্ত করা হয়েছে।
অনেক নারী এই ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহারের পর ক্লান্তি, জয়েন্টে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং ব্রেইন ফগ বা মানসিক অস্পষ্টতার মতো সমস্যায় ভোগেন। এই সব উপসর্গকে সম্মিলিতভাবে ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট ইলনেস বলা হয়। জর্জিয়ার বাসিন্দা জেনিফার কুক নামের এক নারী ২০১৭ সালে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর জানান যে তিনি সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছিলেন।
অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন যে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জানালেও ইমপ্ল্যান্টের কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকতে পারে সে বিষয়ে তাদের সতর্ক করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ৩ লাখের বেশি নারী সৌন্দর্যবর্ধক উদ্দেশ্যে স্তন ইমপ্ল্যান্ট করান। এছাড়া মাস্টেকটমির পর স্তন পুনর্গঠনের জন্য আরও প্রায় ১ লাখ নারী এই পদ্ধতি গ্রহণ করেন। লাখো নারী বর্তমানে এই কৃত্রিম প্রোস্থেসিস ব্যবহার করছেন।
স্বল্পমেয়াদি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অস্ত্রোপচারের কয়েক সপ্তাহ পর ইমপ্ল্যান্টের চারপাশে সংক্রমণ হওয়া। এই সংক্রমণ গুরুতর হলে ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ করার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া অস্ত্রোপচারের পর রক্তক্ষরণ বা তরল পদার্থ জমে হেমাটোমা বা সেরোমা তৈরি হতে পারে, যা বের করার জন্য পুনরায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি সমস্যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী স্তনব্যথা, কালশিটে, ফোলাভাব এবং ক্ষত নিরাময়ের সমস্যা।
এছাড়া স্তনবৃন্ত বা স্তনের ত্বকের অনুভূতি সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার মধ্যে অন্যতম হলো ক্যাপসুলার কনট্রাকচার। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে ইমপ্ল্যান্টের চারপাশে তৈরি হওয়া দাগের টিস্যু শক্ত হয়ে ইমপ্ল্যান্টকে চেপে ধরে, যার ফলে স্তন শক্ত হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। এছাড়া ইমপ্ল্যান্ট ফেটে যাওয়া বা চুপসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। স্যালাইন ইমপ্ল্যান্ট ফেটে গেলে তা দৃশ্যমানভাবে চুপসে যায়, তবে সিলিকন জেল ইমপ্ল্যান্ট ফেটে গেলেও বাইরে থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না, যাকে সাইলেন্ট রাপচার বলা হয়।
অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার মধ্যে রয়েছে ইমপ্ল্যান্টের স্থানচ্যুতি। এর ফলে ইমপ্ল্যান্ট নিজের জায়গা থেকে সরে যেতে পারে বা নড়াচড়া করতে পারে, যা দুই স্তনের আকারে অসমতা এবং ত্বকে ঢেউখেলানো ভাব তৈরি করতে পারে। এছাড়া স্তনের টিস্যুতে পরিবর্তনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে নারীদের শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
