ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিম তীরের রামাল্লার উত্তরে তুরমুস আয়া এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। তুরমুস আয়া এলাকায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নাগরিক বসবাস করেন। রাষ্ট্রদূত হাকাবি জানান, মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এই সফর করেছেন।
সফরকালে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমাগত সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা নিজেদের বাড়িতে বসবাস করতে এবং স্বাভাবিক চলাফেরা করতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হাকাবির মতে, অন্যের ওপর হামলা চালিয়ে ভীতি সৃষ্টি করাকে যে কোনো সংজ্ঞাতেই সন্ত্রাসবাদ বলা যায়। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার সঙ্গে বসবাসের মৌলিক অধিকার রয়েছে এবং এই অধিকার নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব ইসরায়েলি সরকারের।
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাস মানেই সন্ত্রাস এবং যারা এ ধরনের সহিংসতায় জড়িত হবে, তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এদিকে, গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শনিবার গাজার খান ইউনিস, দেইর আল-বালাহ, শুজাইয়া মার্কেট এবং বুরেইজ শরণার্থীশিবিরে বিমান হামলা ও কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
গাজায় যখন সামরিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে, ঠিক সেই সময়ে পশ্চিম তীরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফর ও মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রদূতের এই সফরের পরপরই পশ্চিম তীরের তুবাস এলাকার ইয়ারজা থেকে কয়েকজন ফিলিস্তিনি কৃষককে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে বলে জানা গেছে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা চলতি বছরে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা পরিচালিত সহিংসতার ঘটনা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সময়ের মধ্যে ১৪৩০টিরও বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে মানুষ হতাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এসব সহিংসতার কারণে ২৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি তাদের বসতবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। রাষ্ট্রদূত হাকাবি অতীতে খ্রিস্টান জায়নবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সমালোচনা করে তিনি ইসরায়েলি সরকারের ওপর দায়ভার অর্পণ করেছেন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, পশ্চিম তীরের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলি সরকারের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব।
এর আগে তিনি নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইসরায়েলের অধিকার রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই কঠোর বার্তা এবং ইসরায়েলি সরকারের প্রতি আহ্বান ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফর ও বক্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন গাজায় মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং পশ্চিম তীরেও অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে।
