ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সুন্দরবন এবং পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার লক্ষ্যে একটি নতুন বিশেষ বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই বাহিনীর নাম রাখা হয়েছে অর্জুন বাহিনী। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই নতুন বাহিনী গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। মূলত দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি সেবা প্রদান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই বাহিনীর প্রধান উদ্দেশ্য।
রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সৈনিক বোর্ড থেকে ২০০ জন সদস্যকে নিয়ে এই বাহিনী গঠন করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই বাহিনীতে নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যরা সবাই ভারতের সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া ব্যক্তি হবেন এবং তাদের বয়স ৪০ বছরের কম হতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণকারী অগ্নিবীরদের এই বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বাহিনীটির সদস্যদের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০০ জনকে কলকাতায়, ১০০ জনকে পাহাড়ি এলাকায় এবং ৫০ জনকে সুন্দরবন অঞ্চলে আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মোতায়েন করা হবে। এই বাহিনীটিকে কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আদলে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার।
এর ফলে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বিপদসঙ্কুল পরিবেশে কাজ করার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন এই বাহিনীর সদস্যদের বেতন কাঠামো এবং আর্থিক সহায়তার বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, অর্জুন বাহিনীর প্রধানের মাসিক বেতন হবে ৪০ হাজার রুপি। এছাড়া বাহিনীর সাধারণ সদস্যদের মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার রুপি করে।
প্রতি বছর তাদের বেতনে ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। দায়িত্ব পালনকালে কোনো সদস্যের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হলে তার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া গুরুতর আঘাতের কারণে কোনো সদস্য শারীরিক অক্ষমতার শিকার হলে তাকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সুন্দরবন এবং পাহাড়ি এলাকাগুলো ভৌগোলিক কারণে সবসময়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকে। এই অঞ্চলগুলোতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক পরিকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হবে যাতে তারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। সুন্দরবনের মতো বনাঞ্চল এবং পাহাড়ি জনপদগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। এই নতুন বাহিনী গঠনের মাধ্যমে সরকার সেই ঝুঁকিগুলো আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে চায়।
বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং তাদের কর্মপরিধি নির্ধারণের মাধ্যমে প্রশাসনিকভাবে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হলে তা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
