প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে তুরস্ক ও মিশর। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় অনুষ্ঠিত বলকান শিল্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সপো অ্যান্ড সামিট ২০২৬-এর সাইডলাইন বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মিলিত হন এবং এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব ও প্রযুক্তিগত বিনিময় আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে তুরস্কের মেকানিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন (এমকেই)। অন্যদিকে মিশরের পক্ষে হেলিওপোলিস কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং হেলওয়ান কোম্পানি ফর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রিজ এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ের নতুন পথ উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মিশরের সামরিক উৎপাদনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালাহ সোলেইমান জেমবালাত জানিয়েছেন, এই সমঝোতা স্মারক দুই দেশের শিল্প অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এর মাধ্যমে প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করবে। তুরস্কের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীও এই চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
তিনি দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের বর্তমান অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে তুরস্কের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এই চুক্তিটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের কৌশলগত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নেতৃত্বে একটি নতুন নিরাপত্তা বলয় গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া চলছে।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোট নামে পরিচিত এই বলয়ে মিশরের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তুরস্ক ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা শিল্পে এই নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে মক্কা জোটে মিশরের যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ত্বরান্বিত হতে পারে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের এই সমন্বয় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ক ও মিশর তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তির আওতায় দুই দেশ যৌথ গবেষণা, উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। এর ফলে উভয় দেশই তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের আধুনিকায়নে বিশেষ সুবিধা পাবে। এই সমঝোতা স্মারকটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের পথ প্রশস্ত করবে।
দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে যে নতুন গতির সঞ্চার হবে, তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
