দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেতা কওয়াক সি-ইয়াং এবং কে-পপ দল লাভলিজের সাবেক সদস্য ইউ জি-এ বিয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাতে লেখা চিঠি প্রকাশের মাধ্যমে তাঁরা এই সিদ্ধান্তের কথা ভক্তদের জানান। আগামী ২৮ নভেম্বর তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন। এই বিয়ের অনুষ্ঠানটি একান্ত ব্যক্তিগত পরিসরে আয়োজন করা হবে, যেখানে কেবল পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠজনেরা উপস্থিত থাকবেন।
কওয়াক সি-ইয়াং তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এমন একজন বিশেষ মানুষের সন্ধান পেয়েছেন যার সঙ্গে তিনি জীবনের বাকি সময়টা অতিবাহিত করতে চান। পারস্পরিক বিশ্বাস ও গভীর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করেই তাঁরা একসঙ্গে পথচলার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অভিনেতা আরও জানিয়েছেন যে, জীবনের কঠিন সময়ে তাঁরা একে অপরকে সমর্থন করবেন এবং আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেবেন।
বিয়ের পরবর্তী জীবন নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কওয়াক। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, বিয়ের পরও তিনি অভিনয়ে নিয়মিত থাকবেন। সংসার জীবন শুরু করার পর নিজেকে আরও পরিণতভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি ভালো কাজ এবং অভিনয়ের মাধ্যমে ভক্তদের আনন্দ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
একই দিনে ইউ জি-এ তাঁর নিজস্ব চিঠিতে নতুন পথচলার বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন যে, তাঁরা আনন্দের সঙ্গে এই নতুন জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। হঠাৎ বিয়ের এই ঘোষণায় ভক্তদের অনেকের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হতে পারে বলে ইউ জি-এ স্বীকার করেছেন। তাই তিনি ভক্তদের উদ্দেশে লিখেছেন, এই নতুন শুরুকে সবাই ভালোবাসা দিয়ে উদ্যাপন করলে তিনি অত্যন্ত খুশি হবেন।
কওয়াক সি-ইয়াং ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৪ সালে ‘নাইট ফ্লাইট’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর তিনি ‘ওহ মাই ঘোস্ট’, ‘মিরর অব দ্য উইচ’, ‘ফ্লেক্স এক্স কপ’ এবং ‘মাই ডিয়ারেস্ট নেমেসিস’-এর মতো জনপ্রিয় ড্রামাতে অভিনয় করে পরিচিতি পান। অন্যদিকে, ইউ জি-এ ২০১৪ সালে লাভলিজ নামক সংগীত দলের সদস্য হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ‘আহ-চু’ এবং ‘ডেসটিনি’ গানগুলোর মাধ্যমে এই দলটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
সংগীতের পাশাপাশি ইউ জি-এ অভিনয়েও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তাঁকে ‘দ্য এসকেপ অব দ্য সেভেন’ এবং ‘দ্য থার্ড ম্যারেজ’-এর মতো ড্রামাতে অভিনয় করতে দেখা গেছে। বিয়ের এই ঘোষণাটি তাঁদের ভক্তদের জন্য একটি বড় চমক হিসেবে এসেছে। ব্যক্তিগত জীবনের এই নতুন অধ্যায় শুরু করার পাশাপাশি তাঁরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রেও সক্রিয় থাকার অঙ্গীকার করেছেন।
তাঁদের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিয়ের তারিখ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁদের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে বিয়ের আয়োজনে বাইরের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
