থাইল্যান্ডের পাতায়া বন্দরে নোঙর করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দুই সেনাসদস্যকে মদ্যপ অবস্থায় মারামারিতে জড়ানোর অভিযোগে জাহাজে ফেরত পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে শহরের একটি পানশালার কাছে এই ঘটনাটি ঘটে। একজন থাই নাগরিক জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানান যে, দুই মার্কিন সেনা মারামারি করছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং ওই দুই সেনাসদস্যকে শহরের হ্যার্ড রক ক্যাফেতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-থাইল্যান্ড যৌথ অপারেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁদেরকে পুনরায় রণতরিতে ফেরত পাঠানো হয়।
এক থাই কর্মকর্তা এই ঘটনাকে সামান্য বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ওই দুই সেনা মদ্যপ ছিলেন এবং মারামারি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হয়েছিল। ওই দুই সেনাসদস্যকে এখন পাতায়ায় অবস্থানের বাকি পাঁচ দিনের সময়টুকু রণতরি জাহাজেই কাটাতে হবে।
ইরান যুদ্ধের দায়িত্ব পালন শেষে গত বুধবারই নিমিটজ-শ্রেণির এই রণতরি পাতায়ায় নোঙর করে। এই রণতরিটি দীর্ঘ প্রায় নয় মাস বা ২৮৬ দিন টানা সমুদ্রে অবস্থান করেছিল। গত নভেম্বরে শুরু হওয়া এই মিশনটি চলতি বছরের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। রিয়ার অ্যাডমিরাল রবার্ট লাফরান এক বিবৃতিতে জানান, লেম চাবাংয়ে রণতরিটির আগমন নাবিক ও নৌসৈন্যদের জন্য বিশ্রাম ও নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করার একটি দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে।
তবে এই রণতরিটির সাথে সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট এবং রসদ ঘাটতির খবর সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। জাহাজে থাকা ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনার মানসিক স্বাস্থ্যের সংকটের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। এমনকি কয়েকজন সেনা জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করা এক নাবিকের স্ত্রী জানান, তাঁর স্বামী ১৩ বছরের ক্যারিয়ারের পর এই অবস্থায় পৌঁছেছেন এবং বর্তমানে ওই নাবিক চিকিৎসার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত মাসে যুদ্ধজাহাজের এই শোচনীয় অবস্থার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, যে নাবিকদের প্রতি তাঁর সর্বোচ্চ সম্মান ও কৃতজ্ঞতা রয়েছে এবং উত্তাল সাগরের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁরা যা করেছেন তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
বেসামরিক পোশাকে থাকা কিছু মার্কিন সেনাকে পাতায়ার ওয়াকিং স্ট্রিটে বিয়ার খেতে, বিদেশি সাপ নিয়ে খেলা করতে এবং বার্গার কিং-এর দোকানে যেতে দেখা গেছে। রণতরি থেকে নামার সময় এক সেনার অনুভূতি ছিল যে তাঁর খুব দারুণ লাগছে। পাতায়ার মূল সড়কজুড়ে অসংখ্য ক্লাব, পানশালা এবং ট্যাটু শপ রয়েছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সেনারা চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত পাতায়ায় অবকাশযাপনের সুযোগ পাবেন।
