তুরস্কের ইস্তাম্বুল উপকূলের কাছে মারমারা সাগরে দুটি জাহাজের সংঘর্ষে একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। এই ঘটনায় জাহাজটিতে থাকা ১০ জন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আবদুলকাদির উরালোগ্লু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে সিলিভরি উপকূল থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম তুগবার্ক ইমামোগ্লু এবং অপর জাহাজটির নাম আলসু। তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাহাজটিতে ক্যাপ্টেনসহ মোট ১০ জন নাবিক ছিলেন এবং তারা সবাই তুর্কি নাগরিক। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সংঘর্ষের পর মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে জাহাজটি সাগরের পানিতে তলিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ নাবিকদের কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ইস্তাম্বুল গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, তুগবার্ক ইমামোগ্লু কার্গো জাহাজটির ক্রুদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরপরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে, আলসু জাহাজটি এই সংঘর্ষে বড় ধরনের কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান চালিয়ে তুগবার্ক ইমামোগ্লু জাহাজের একটি লাইফবোট এবং কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে।
তবে জাহাজটির কোনো নাবিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ৯০ মিটার দীর্ঘ তুগবার্ক ইমামোগ্লু জাহাজটি তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর ইস্কেন্দেরুন থেকে কৃষ্ণসাগরের এরেগলির দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে ৯১ মিটার দীর্ঘ আলসু জাহাজটি ইস্তাম্বুলের পূর্বে অবস্থিত কোকেলি থেকে এজিয়ান উপকূলের আলিয়াগার দিকে যাচ্ছিল। মারমারা সাগর তুরস্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
এই সাগরের দুই প্রান্তে অবস্থিত বসফরাস ও দারদানেলিস প্রণালি বিশ্বের ব্যস্ততম নৌপথগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতি বছর ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই পথ দিয়ে লাখ লাখ জাহাজ চলাচল করে। এই ব্যস্ত নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তুর্কি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
উদ্ধারকারী জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর থেকে ওই এলাকায় নৌ চলাচল ও উদ্ধার কাজের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। নিখোঁজ নাবিকদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানের প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সমুদ্রের স্রোত উদ্ধার কাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাহাজডুবির এই ঘটনাটি তুরস্কের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং জাহাজ দুটির মধ্যে সংঘর্ষের সঠিক পরিস্থিতি তদন্ত শেষে জানানো সম্ভব হবে।
বর্তমানে উদ্ধার কাজই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে সব ধরনের প্রযুক্তি ও জনবল ব্যবহার করা হচ্ছে।
