ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে মঙ্গলবার রাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এই হামলায় বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মীদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কারিগরি অবকাঠামোর বেশ কিছু অংশে আগুন ধরে যাওয়ার দাবিও করেছে তারা। তবে জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।
অবশিষ্ট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়েছে, যার ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মার্কিন সূত্রগুলোও জানিয়েছে, জর্ডানের ক্যাম্প তিতিনসহ অন্যান্য মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়নি। আইআরজিসি দাবি করেছে, ক্যাম্প তিতিনে মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে চালানো হামলায় অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং শত্রুপক্ষের অ্যাটক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে।
এই হামলার কারণ হিসেবে তারা হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে এক শিশুসহ চারজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাতেও সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জামের গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে।
ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবিও করা হয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রু ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ভূপাতিত করার ফলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এছাড়া বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির দাবি, শেখ ঈসা ঘাঁটিটি পারস্য উপসাগরে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারি উড়োজাহাজের জন্য ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই হামলাকে তারা অপারেশন থান্ডার নামক সামরিক অভিযানের ২৯তম ধাপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান, আসলুয়েহ এবং আহভাজ প্রদেশে মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা চালায়। গত জুলাই মাসের পর রোববার রাতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে কঠোর আঘাত হানার হুমকি দেওয়ার পর মঙ্গলবার এই হামলাগুলো চালানো হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় সতর্ক করে বলেছেন, এই হামলার জবাবে ইরান যদি পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখে, তবে তাদের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি করে আসছে।
