সরাসরি
বাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাববাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব
International মিনিট পড়া
|১০০%|

জন কিটসের শরতের সঙ্গে বাংলার শরতের মিল ও অমিল

জন কিটসের শরতের সঙ্গে বাংলার শরতের মিল ও অমিল
জন কিটসের শরতের সঙ্গে বাংলার শরতের মিল ও অমিল — বাংলা ধ্বনি

শরৎকাল এলেই বাংলার প্রকৃতি এক অপরূপ রূপ ধারণ করে। বর্ষার দীর্ঘ মেঘ ও বৃষ্টির পর নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর মাঠজুড়ে কাশফুলের দোলা জানান দেয় শরতের আগমন। ভোরের শিশিরভেজা ঘাসে শিউলি ফুলের গন্ধ আর নির্মল বাতাস বাঙালির মনে এক বিশেষ অনুভূতির জন্ম দেয়। বাংলার শরৎ কেবল ক্যালেন্ডারের একটি ঋতু নয়, বরং এটি বাঙালির শৈশব, স্মৃতি এবং উৎসবের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

তবে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডের কবি জন কিটসের কবিতায় শরতের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা বাংলার শরতের চেয়ে ভিন্ন হলেও এক গভীর মিল বহন করে। কিটসের শরতে কাশফুল বা নীল আকাশ নেই, সেখানে আছে কুয়াশা, পাকা ফল, শস্যের প্রাচুর্য এবং শীতের আগমনের মৃদু আভাস।

কিটসের বিখ্যাত কবিতা 'টু অটাম' বা 'শরতের প্রতি' ১৮১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রচিত হয়। কবি তখন উইনচেস্টারে অবস্থান করছিলেন। মাত্র তিনটি স্তবকের এই কবিতায় তিনি শরতের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনচক্র তুলে ধরেছেন। কবিতার প্রথম স্তবকেই তিনি শরৎকে 'কুয়াশা ও পরিপক্ব ফলপ্রাচুর্যের ঋতু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাংলার শরতে আমরা যেমন আকাশকে প্রাধান্য দিই, কিটস সেখানে ফল ও শস্যের পরিপক্বতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

তাঁর বর্ণনায় আপেল পেকে ওঠা, লতাগুল্মের ভারে নুয়ে পড়া এবং মৌমাছির চাক মধুতে পূর্ণ হওয়ার চিত্র ফুটে ওঠে। কিটসের কাছে শরৎ কেবল গ্রীষ্মের পরের ঋতু নয়, বরং এটি প্রকৃতির পূর্ণতার মুহূর্ত। কবিতার দ্বিতীয় স্তবকে কিটস শরৎকে একজন মানুষের রূপ দিয়েছেন। কখনো সে শস্যাগারের মেঝেতে অলস বসে আছে, কখনো ফসল কাটার পর ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে, আবার কখনো শস্য ঝাড়ার বাতাসে তার চুল উড়ছে।

এখানে প্রকৃতি ও মানুষের শ্রম একাকার হয়ে গেছে। কিটস দেখিয়েছেন যে শরৎ কেবল সৌন্দর্যের ঋতু নয়, এটি কর্মমুখরতারও সময়। তৃতীয় স্তবকে কিটস বসন্তের সংগীতের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেন, বসন্তের গান কোথায়? কিন্তু পরক্ষণেই তিনি উত্তর দিয়েছেন যে শরতেরও নিজস্ব সংগীত আছে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ঝিঁঝি পোকার ডাক, মেষশাবকের ডাক এবং আবাবিলের কিচিরমিচির শব্দে শরৎ তার নিজস্ব সন্ধ্যাগান তৈরি করে।

কিটস এখানে বসন্তের সাথে শরতের কোনো প্রতিযোগিতা তৈরি করেননি, বরং শরতের নিজস্ব সৌন্দর্যকে তুলে ধরেছেন। পশ্চিমা সাহিত্যে শরৎকে প্রায়ই বিষণ্নতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, কারণ সেখানে দিনের আলো কমে আসা এবং পাতা ঝরার সাথে শীতের আগমন ঘটে। কিন্তু কিটসের কবিতায় এই ক্ষয় বা বিদায়ের সুরটি আতঙ্কের নয়, বরং তা এক ধরনের শান্ত প্রশান্তি।

বাংলার শরতের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। এখানে শরৎ মানেই উৎসব, বিশেষ করে শারদীয় দুর্গাপূজা। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, শরৎকালীন দুর্গাপূজা বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। যদিও আদিতে বসন্তকালেও দুর্গাপূজার প্রচলন ছিল, কিন্তু বর্তমানে শরৎ ও দুর্গাপূজা একে অপরের সমার্থক হয়ে উঠেছে।

জীবনানন্দ দাশের কবিতাতেও বাংলার শরতের এক ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়। তাঁর প্রকৃতিতে সৌন্দর্যের পাশাপাশি ক্ষয়, স্মৃতি ও একাকিত্বের ছায়া বিদ্যমান। কিটসের শরতের সাথে জীবনানন্দের বাংলার শরতের এক অদ্ভুত আত্মীয়তা রয়েছে। কিটসের শরতে যেমন সৌন্দর্যের ভেতরেই ক্ষয়ের উপস্থিতি আছে, জীবনানন্দের কবিতাতেও রূপের আড়ালে বিদায়ের সুর লুকিয়ে থাকে।

কিটসের নিজের জীবনের প্রেক্ষাপটও এই কবিতাকে গভীরতা দিয়েছে। যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। তবে 'টু অটাম' কেবল মৃত্যুর কবিতা নয়, এটি পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এবং বর্তমান মুহূর্তের পূর্ণতাকে গ্রহণ করার এক অনন্য দলিল। পরিশেষে বলা যায়, কিটসের শরৎ আর বাংলার শরৎ ভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানে থাকলেও তারা একই উপলব্ধির দিকে নিয়ে যায়।

ঋতু আসে এবং চলে যায়, কিন্তু তাদের সৌন্দর্য ও সংগীত রয়ে যায়। বসন্তের গান চলে গেছে বলে বিষণ্ন হওয়ার কিছু নেই, কারণ শরতেরও নিজস্ব গান আছে যা কেবল কান পেতে শোনার প্রয়োজন। প্রকৃতির এই রূপান্তর আমাদের শেখায় যে সৌন্দর্য চিরস্থায়ী নয়, তবে প্রতিটি ঋতুরই নিজস্ব মহিমা ও সুর আছে যা আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT
তাসনিম আরা তথ্যাদি সম্পাদকীয় যাচাইকৃত

বাংলা ধ্বনি নিউজরুমের নিবন্ধিত সাংবাদিক। তথ্য অনুসন্ধান, সামাজিক সচেতনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বাংলা ধ্বনি নিউজরুম বিশেষ বিশ্লেষণ

এই প্রতিবেদনটি বাংলা ধ্বনি নিজস্ব সম্পাদকীয় পরিষদ কর্তৃক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যাচাইকরণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটির ধারাবাহিক আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম
পাঠকদের প্রতিক্রিয়া
পরিবেশনায়: তাসনিম আরা© 2026 Bangla Dhwani (বাংলা ধ্বনি)
সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ খবর

আরও পড়ুন

/ ১৫