গাজা উপত্যকার পশ্চিম গাজা সিটির আল-কাতিবা এলাকায় গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর অভিযানে সামাহ আল-আরাবিদ আল-খালিদি নামে এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী বেসামরিক গাড়ি ব্যবহার করে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। তাদের ধারণা, ইসরায়েলি বাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল সামাহর স্বামী মুইন আল-আরাবিদকে আটক করা।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মুইন আল-আরাবিদ, তার এক ছেলে এবং একজন সহযোগী বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে এবং তাদের মধ্যে গুলিবিনিময় শুরু হয়। এই সংঘর্ষে সামাহর এক ছেলে ওবাইদার বুকে তিনটি গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
সামাহর স্বামী মুইন আল-আরাবিদও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে একটি গাছের আড়ালে আশ্রয় নেন। এই পুরো ঘটনাটি সামাহর চোখের সামনে ঘটে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, সামাহ তার আহত ছেলে ওবাইদাকে বাঁচাতে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণ ঠেকাতে নামাজের পোশাক পরা অবস্থায় একটি কালাশনিকভ একে-৪৭ রাইফেল হাতে তুলে নেন। তিনি গাছের আড়াল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর গাড়ির লক্ষ্য করে গুলি চালান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সামাহর ভাই মোহাম্মদ আল-খালিদি এবং পরিবারের অন্যান্যরা জানান যে, সামাহ সম্প্রতি তার ছেলে ওবাইদার বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং পরিবারের সবাই যেন একসঙ্গে এই আনন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন সে বিষয়ে তিনি সামাহর অনুরোধ করেছিলেন।
তবে বিয়ের অনুষ্ঠানের আগেই সামাহর মৃত্যু হয়েছে। গাজা সিটির আল-জালা স্ট্রিটের পারিবারিক শোকঘরে তার মৃতদেহ রাখা হয়েছে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, পরবর্তীতে ওই এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে সামাহ নিহত হন এবং তার আরও দুই ছেলে আহত হন। এই ঘটনায় ওবাইদা তার একটি চোখ হারিয়েছেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, সামাহর স্বামী মুইন আল-আরাবিদ পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় মোট ৭৩ হাজার ৩৮৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, এই সংঘাতের ফলে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৬৬ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
সামাহর তিন সন্তানের জননী এই নারী গাজার ধ্বংসস্তূপে বসবাসকারী পরিবারগুলোর কাছে উম্মে মুহাম্মদ নামে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
