কলকাতায় ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে আসা বাংলাদেশি রোগী এবং তাদের স্বজনরা থাকার জায়গা না পেয়ে রাস্তার ফুটপাতে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
প্রশাসন সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকার হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি থাকায় নিউমার্কেট এলাকা ছাড়াও ঠাকুরপুকুর ও মুকুন্দপুরের বহু হোটেল, গেস্টহাউস ও লজে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ঠাকুরপুকুরের হাসপাতাল এলাকায় আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম সংকটে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, কম খরচের অধিকাংশ হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় থাকার জায়গা পাওয়া পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, যেসব হোটেল এখনো খোলা রয়েছে, সেই হোটেলগুলোর ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
থাকার জায়গা না পেয়ে অনেক বাংলাদেশি রোগীর স্বজন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের আশপাশের ফুটপাত কিংবা রাস্তার ধারের বিভিন্ন স্থানে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষার মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মশার উপদ্রবের পাশাপাশি ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার আশঙ্কার মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে অসুস্থ রোগীদের স্বজনদের।
অনেকের জন্য পর্যাপ্ত স্নান ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও নেই, ফলে তাদের হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপির পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে রাস্তার পাশে রাত কাটানোর কারণে যানবাহনের শব্দ, হর্ন এবং শহরের ব্যস্ত পরিবেশের কারণে রোগীদের বিশ্রাম ব্যাহত হচ্ছে। এতে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষগুলোর দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঠাকুরপুকুর এলাকার হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে যে, রাস্তার ধারে পরপর শুয়ে বা বসে আছেন চিকিৎসা করাতে আসা বহু বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের অনেকের মাথার পাশে লাগেজ এবং ওষুধপত্র রাখা রয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের অভিযোগ যে, আগে কলকাতায় কম খরচে যেসব হোটেলে থাকা যেত, সেগুলোর অনেকগুলোই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। আর যেগুলো খোলা রয়েছে, সেখানে ভাড়া তিন গুণ বা তারও বেশি চাওয়া হচ্ছে। ফলে সীমিত সামর্থ্যের মানুষের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের যশোরের বাসিন্দা খুরশিদ আলম তার শাশুড়ির ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ঠাকুরপুকুরে এসেছেন। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর হোটেল না পেয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন। খুরশিদ আলম জানান, আগে যে হোটেলে তারা থাকতেন, সেখান থেকে তাদের চলে যেতে বলা হয়েছে কারণ হোটেলটি বন্ধ হয়ে যাবে।
এরপর থেকে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে সারাদিন সেখানে থাকার পর রাতে রাস্তায় এসে সময় কাটাতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে, কত দিন এভাবে থাকতে হবে, সেটিও তারা জানেন না।
সাতক্ষীরার বাসিন্দা মোহাম্মদ পাবেল তার মায়ের ক্যানসারের চিকিৎসার চিকিৎসার জন্য ঠাকুরপুকুরে এসেছেন। তিনি জানান, আশপাশে কোনো হোটেলে জায়গা না পাওয়ায় রাতের পর রাত ফুটপাতে বসে বা শুয়ে কাটাতে হচ্ছে। এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা দুলাল দাস তার ছেলের ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য এসেছেন এবং তিনিও এখন ফুটপাতে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
